মেসি 'ফাঁকা বুলি' ছাড়েননি, অবশেষে ব্যাখ্যা দিলেন লেভানদভস্কি
স্বদেশী অনলাইন চ্যানেল 'কানাল স্পোর্তউই'কে লাইভে এসে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন পোলিশ ভাষায়। কিন্তু অনুবাদ করতে গিয়ে ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়ে দেয় অনেক নামীদামী গণমাধ্যমও। অবশেষে লিওনেল মেসিকে নিয়ে করা মন্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা দিলেন রবার্ত লেভানদভস্কি।
অথচ লেভানদভস্কি বলেছেন সম্পূর্ণ উল্টোটাই। মেসির সেদিনের বক্তব্য তার হৃদয় ছুঁয়েছে বলেই মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু কিছু সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায় মেসির কথা কেবল 'ফাঁকা বুলি' হিসেবেই দেখেছেন এ বায়ার্ন মিউনিখ তারকা।
আগের দিন জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে এক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন লেভানদভস্কি। সেখানেই নিজের মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা ছাপা হয়েছে দাবি করে বলেন, 'মেসির কথাগুলো আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সেগুলো ফাঁকা বুলি ছিল না। এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।'
ব্যালন ডি'অর অনুষ্ঠানের সেই দিনের ঘটনা তুলে লেভা আরও বলেন, 'আমি লিওর (সরাসরি) সঙ্গে খুব সামান্য কথাই বলেছি, কারণ আমার স্প্যানিশ খুব একটা ভালো না। আমি কিলিয়ানের (এমবাপে) সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলেছি, সে এটা লিওকে অনুবাদ করে দিয়েছে। এটা দারুণ একটি রাত ছিল।'
২০২০ সালে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছিলেন লেভানদভস্কি। বায়ার্ন মিউনিখকে ট্রেবল জেতানোর মূল কারিগরই ছিলেন তিনি। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শে বছর ব্যালন ডি'অর দেয়নি ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিন। তবে গত মৌসুমের ব্যালন ডি'অর হাতে তুলে নেওয়ার দিন ২০২০ সালের পুরষ্কারটি লেভানদভস্কিকে দেওয়া জন্য অনুরোধ করেছিলেন মেসি।
'আমি রবার্টকে কিছু বলতে চাই। ওর সঙ্গে লড়াইয়ে থাকা ছিল দারুণ সম্মানের ব্যাপার। সবাই জানে এবং আমরা সবাই মানি গত বছর ওই সেরা খেলোয়াড় ছিল। আমার মনে হয় ফ্রান্স ফুটবল ওকে ২০২০ সালের জন্য এই পুরষ্কার দিতে পারে। তুমি ব্যালন ডি'অর প্রাপ্য। আমি বিশ্বাস করি তোমার বাড়িতেও এটা থাকা উচিত।' - বলেছিলেন মেসি।
আর মেসির এই বক্তব্য নিয়ে পরে কানাল স্পোর্তউইকে একটি সাক্ষাৎকার দেন লেভা, 'খারাপ লেগেছে তা অস্বীকার করতে পারব না। মেসির মতো কারও সঙ্গে টক্কর দেওয়াটা নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। এটা প্রমাণ করে দেয় নিজের খেলাকে আমি কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। মেসির মতো কারো কাছ থেকে আমি আন্তরিক মন্তব্য আশা করেছিলাম, ফাঁকা বুলি না।'
২০২০ সালটা স্বপ্নের কেটেছে এ লেভানদভস্কির। চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে বায়ার্নের হয়ে লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, জার্মান কাপসহ ট্রেবল জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েন। বুন্ডেসলিগায় সেরা গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরও সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন তিনি। মাত্র ২৯ ম্যাচে করেছেন ৪১ গোল করে কিংবদন্তি জার্ড মুলারের রেকর্ড ভেঙেছেন। জিতেছিলেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শুও।