পদ্মা সেতু দেখে কুয়াকাটা ঘুরতে যাওয়া হলো না তাদের

By নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

পদ্মা সেতু দেখবেন বলে ভোরে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন গাজীপুর মহানগরের ১১ নং কোনাবাড়ী জয়েরটেক এলাকার ৯ জন। তবে বিকেল না গড়াতেই সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ওই এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।

জয়েরটেক এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রফিজ উদ্দিন স্বপন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '২দিন আগে তারা পদ্মা সেতু দেখার পরিকল্পনা করে। পরে পদ্মাসেতু হয়ে কুয়াকাটা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পদ্মাসেতু হয়ে আর কুয়াকাটা যাওয়া হলো না তাদের। পথেই প্রাণ হারালেন ৬ জন।'

মাইক্রোবাসটিতে থাকা ৯ জনের মধ্যে ২ জন দলিল লেখক ও ৭ জন ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানান তিনি। তারা সবাই গাজীপুরের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- উজিরুল ইসলামের ছেলে রুহুল আমিন (৪২),  হাজী জব্বার আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৩), মোহাম্মদ রহা মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম ঠান্ডু (৫৪), হাসেন মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান (৪৫), আব্দুর রহমানের ছেলে হারুন অর রশিদ বাদশা (৪০) ও তমিজউদ্দিনের ছেলে হাসান সরকার (৩৬)।

আহতদের মধ্যে মাইন উদ্দিনের ছেলে মোকসেদ (৫৪), আলম ও মাইক্রোবাস চালক আসর উদ্দিনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তাদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। সমবেদনা জানাতে ভিড় করছেন প্রতিবেশীরা।

উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের নতুন শিকারপুর এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।

বরিশালের গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি শেখ মো. বেলাল হোসেন ডেইলি স্টারকে জানান, আজ দুপুরে মোল্লা পরিবহনের বাসটি পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। উজিরপুর উপজেলার নতুন শিকারপুর এলাকায় মাইক্রোবাসটির চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের সামনে আঘাত করে। এসময় বাসটি মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিলে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।'

উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিন উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ওই বাসচালক ও হেলপার এখনো পলাতক। তবে কুয়াকাটা-ঢাকা রুটের মোল্লা পরিবহনের বাসটি ও মাইক্রেবাসটিকে আমরা জব্দ করেছি।'