বই পড়তে ভালোবাসেন মোশাররফ করিম, এখন কী পড়ছেন
ব্যস্ততা বেড়েছে, বদলে গেছে জীবন। কিন্তু স্মৃতিতে এখনো অমলিন থিয়েটারের শুরুর দিনগুলো, বন্ধুদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা আর একসঙ্গে পথচলার গল্প। অভিনেতা মোশাররফ করিমের মনে পড়ে সেই সময়, যখন জীবন ছিল অনেকটাই অন্য রকম।
সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে এক আড্ডায় ফেলে আসা দিনের স্মৃতি, প্রিয় বন্ধু ও বই পড়ার অভ্যাস নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
মোশাররফ করিম বলেন, ‘আড্ডা দিতে পছন্দ করি। ভীষণ ভালোবাসি। থিয়েটারের শুরুর জীবনে অনেক আড্ডা দিয়েছি। এখনো সময় পেলে আড্ডা দিই। কিন্তু সেই আড্ডার মতো প্রাণ যেন আর নেই। ওই মধুর সময় আর ফিরে পাব না। তখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিয়েছি। সেই আড্ডার আলাদা একটা সৌন্দর্য ছিল।’
আড্ডার কথা মনে হলেই তার মনে পড়ে প্রয়াত ছড়াকার ওবায়দুল গণি চন্দনের কথা। ঘনিষ্ঠ বন্ধু চন্দনকে স্মরণ করে মোশাররফ করিম বলেন, ‘চন্দনকে মিস করি। আড্ডা জমিয়ে রাখতেন চন্দন। আড্ডা আর একসঙ্গে পথচলার শত শত স্মৃতি আছে আমাদের। ওর ছড়ায় সত্যিই অন্য রকম মুগ্ধতা ছিল। কত দিন যে আমি আর চন্দন আড্ডা দিয়েছি, তার হিসাব নেই।’

অভিনেতা ফজলুল কবীর তুহিন, গীতিকার ও ছড়াকার বাকীউল আলম এবং চন্দনের সঙ্গে দীর্ঘদিন আড্ডা দিয়েছেন তিনি। সেই দিনগুলোর কথা মনে করে বলেন, ‘এমন ব্যস্ততা আসবে, তা তো ভাবিনি। চন্দনও এত দ্রুত পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে, কেউ ভাবিনি। পেছনের জীবনে তাকালেই সেই সোনালি দিনের কথা মনে পড়ে। ভাবি, ওই জীবন আর ফিরে পাব না। সত্যিকারের জীবন যেন ওটাই ছিল।’
তারিক আনাম খানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নাট্যদল নাট্যকেন্দ্রের অন্যতম সদস্য মশাররফ করিম। দলের শুরুর দিনের স্মৃতিও তাকে নস্টালজিক করে তোলে। তিনি বলেন, ‘তখন খিলগাঁওয়ে থাকতাম। মঞ্চনাটকের জন্য বাসা থেকে হেঁটে হেঁটে বেইলি রোডে দলের কার্যালয়ে যেতাম। ভাবতেই কেমন লাগে। নস্টালজিক হয়ে পড়ি।’
সেই সময়ের একটি মজার ঘটনাও মনে আছে তার। একবার একটি নাটকের জন্য ২০ হাজার টাকা সম্মানি পেয়েছিলেন। কিন্তু টাকা গুনে দেখেন, পেয়েছেন ৪০ হাজার। বারবার গুনেও একই হিসাব। অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে যার কাছ থেকে সম্মানি পেয়েছিলেন, তাকে খুঁজতে থাকেন। পরে জানতে পারেন, তিনিও তাকে খুঁজছেন। শেষ পর্যন্ত বাকি ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে স্বস্তি পান।
থিয়েটারের দিনগুলোতে দলের জন্য নানা কাজ করতে হতো। মোশাররফ করিম বলেন, ‘আমি কখনো বাজার করতে যাইনি, বাড়ির কোনো কাজও কখনো করিনি। সেই আমি দিনের পর দিন নাটকের দলের জন্য কত রকম পরিশ্রম করেছি! মঞ্চের জন্য অনেক কাজ করেছি। এটা সবাইকে করতে হয়। ভালোবাসা থেকেই করেছি।’

অভিনয়ের পাশাপাশি বই পড়তে ভালোবাসেন মোশাররফ করিম। গল্প-উপন্যাসের সঙ্গে কবিতারও টান রয়েছে তার। সম্প্রতি একটি কবিতা লিখেছেন। তবে লেখার চেয়ে কবিতা পড়তেই বেশি ভালোবাসেন বলে জানান তিনি। এখন পড়ছেন মিহির সেনগুপ্তের সিদ্ধিরগঞ্জের মোকাম। কথাসাহিত্যিক রশীদ করিমের উত্তম পুরুষ এবং শওকত আলীর উপন্যাসও তার প্রিয়।
প্রিয় কবিদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের কবি জয় গোস্বামী। কয়েক বছর আগে মোশাররফ করিমকে নিয়ে একটি কবিতা লিখেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সেই কবিতা অভিনেতার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে আছে।
মোশাররফ করিম বলেন, ‘জয় গোস্বামী আমার ভীষণ প্রিয় কবি। তার কবিতার ভক্ত আমি। প্রিয় কবি আরও আছেন। কিন্তু জয় গোস্বামীর কবিতা আমাকে খুব টানে। তার মতো বড় মাপের কবি যখন আমাকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন, আমি অবাক হয়েছি, মুগ্ধ হয়েছি। আমার জন্য এটা বড় প্রাপ্তি।’
স্মৃতির পাতায় জমে থাকা বন্ধুদের আড্ডা, থিয়েটারের দিন আর ফেলে আসা জীবনের গল্প বলতে গিয়ে তাই বারবার ফিরে যান অতীতে। তার কথায়, ‘ফেলে আসা দিনগুলো মিস করি। ফেলে আসা জীবনের আড্ডার দিনগুলো মিস করি।’