গল্প

হালুমের মন খারাপ

বিশ্বজিৎ দাস
বিশ্বজিৎ দাস

‘হালুম! ওঠ বাবা, আর কত ঘুমাবি? সূর্য মামা তো আকাশে দাঁত বের করে হাসছে!’ মা ডাকল।

হালুম চোখ না খুলেই বলল, ‘আমি তো জেগেই আছি মা। কিন্তু বিছানা আমাকে আটকে রেখেছে।’

মা হেসে বলল, ‘আচ্ছা। আমি খাবার খুঁজতে যাচ্ছি। তুই খেয়ে স্কুলে যা।’

মা চলে যেতেই হালুম লম্বা একটা হাই তুলল। আজকে তার মন একেবারেই খারাপ। কিছুই ভালো লাগছে না।

ঠিক তখনই বাইরে থেকে ওর খেলার সাথী খরগু এসে ডাক দিল, ‘এই হালুম, লুকোচুরি খেলবে?’

আরেক বন্ধু মংকু কিচকিচ করে বলল, ‘চল না! আজ আমি লুকোচুরি খেলায় চ্যাম্পিয়ন হবোই হব!’

হালুম গুহার বাইরে এসে নাক সিঁটকাল।

‘আজ আমার মন খারাপ। খেলব না।’

খরগু চোখ গোল গোল করে বলল, ‘কী হয়েছে তোমার? মন খারাপ কেন?’

‘জানি না, আজ সবকিছু বিরক্তিকর লাগছে।’

সে দুই থাবার ওপর মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল। খরগু আর মংকু ওর গম্ভীর ভাব দেখে ফিসফিস করে বলল, ‘চল পালাই, নইলে ও আবার জোরে জোরে নাক ডাকতে  শুরু করবে।’

ওরা চলে গেল। হালুমও আবার ঘুমিয়ে পড়ল।

হঠাৎ খুব আস্তে কে যেন বলল, ‘হালুম, তুমি বালিশ খেয়ে ফেলেছ নাকি? এত ঘুম?’

চোখ মেলে হালুম দেখল, ছোট্ট একটা রঙিন প্রজাপতি ওর কাঁধে এসে বসেছে। হালুম ওকে চেনে। ও হলো পপজা।
হালুম বলল, ‘আমার মন খারাপ।’

পপজা মুচকি হেসে বলল, ‘আরে বাহ! নতুন রোগ হয়েছে দেখছি! তোমার আর চিন্তা কী? খাবেদাবে পড়ালেখা করবে! আর তো কোনো কাজ নেই তোমার। অথচ তোমার হয়েছে মন খারাপের অসুখ!’

হালুম চোখ কপালে তুলে বলল, ‘অসুখ! অসুখের নাম মন খারাপ হয় নাকি? এই রোগের ওষুধ কী?’

পপজা মজা করে বলল, ‘এই রোগের ওষুধ হলো হাসি আর খেলা। চাইলে গাছ লাগাও, ছবি আঁকো, গান গাও, নাচো—সবই ওষুধ হিসেবে কাজ করবে।’

হালুম মুখ বাঁকিয়ে বলল, ‘আমার এখন শুধু ঘুমাতে ইচ্ছে করছে। এসব দিয়ে হবে না।’

পপজা চোখ টিপে বলল, ‘এসবে মন ভালো না হলে আরেকটা উপায় আছে।’

‘কী সেটা?’

‘কোথাও ঘুরতে যাওয়া। ঘুরলে মানুষের মন ভালো হয়ে যায়। তোমাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাব, যেখানে মন খারাপ বলে কিছু নেই।’

হালুম চমকে উঠে বলল, ‘সত্যি? সেখানে কি আইসক্রিম পাওয়া যাবে?’

‘আরে না। আইসক্রিম নেই। তবে মজা আছে!’

পপজা উড়ল। হালুম পেছন পেছন হাঁটতে লাগলো। কিছুদূর যেতেই তারা পৌঁছল এক ফুলের বাগানে। চারদিকে শুধু ফুল আর ফুল। রঙিন রঙিন ফুল। তার ওপরে নাচছে শত শত প্রজাপতি।

‘সুন্দর না?’ পপজা জানতে চাইল।

হালুম হাই তুলে বলল, ‘হুঁ, সুন্দর তো বটে… কিন্তু আমি ক্লান্ত।’

এই বলে বসে পড়ল ও। অমনি ঝাঁক ঝাঁক প্রজাপতি ওর গায়ে এসে বসে পড়ল।

হালুম বিরক্ত হয়ে বলল, ‘এই যে! তোমরা কি আমাকে চেয়ার ভেবেছ নাকি?’

সে নাক ডলল। কান নড়াল। গা ঝাড়া দিল। কিন্তু প্রজাপতিগুলো উড়ে শরীরের অন্য জায়গায় বসল।

পপজা হেসে কুটিকুটি, ‘তাড়াতে পারবে না! ধরতেও পারবে না।’

হালুম রেগে বলল, ‘তাহলে দেখাই যাক কে কাকে ধরতে পারে!’

সে দৌড় দিল। লাফাতে লাফাতে ওদেরকে ধরতে গেল। কিন্তু একটা প্রজাপতিও হালুম ধরতে পারল না।

শেষে হাঁপাতে হাঁপাতে বসে বলল, ‘আহা! মন খারাপের অসুখ কোথায় গেল জানি না… আমি তো দারুণ খুশি!’

পপজা হেসে বলল, ‘বলেছিলাম না? হাসিই হলো সেরা ওষুধ!’