রুটিন টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্ক টিকা: তদন্ত ও শিশুর জরুরি চিকিৎসার নির্দেশ হাইকোর্টের

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

টাঙ্গাইলে এক মাস বয়সী এক শিশুকে রুটিন টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে শিশুটির জরুরি চিকিৎসা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

একইসঙ্গে, শিশু ফাহিতা ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কেন ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেছেন।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব জানান, আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদী স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আইইডিসিআর পরিচালক, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন, ভুয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং টিকাদানকারী মো. কাইয়ুমকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আর এ ঘটনায় একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে, যেখানে আইইডিসিআরের প্রতিনিধি রাখতে বলা হয়েছে।

কমিটিকে ভুল টিকাদানের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে শনাক্ত করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত।

মানবাধিকার সংস্থা 'ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের' পক্ষে ব্যারিস্টার পল্লব এ রিট আবেদন করছিলেন।

এতে বলা হয়, গতকাল ১৩ মে এক মাস বয়সী শিশু ফাহিতাকে তার মা রুটিন টিকাদানের জন্য টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু, দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শকের অবহেলার কারণে নির্ধারিত টিকার পরিবর্তে ভুল করে তাকে ২ ডোজ জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেন। এ ঘটনার পর শিশুটি ধীরে ধীরে দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

টিকাদানকারী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এ ঘটনায় নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ ধরনের গুরুতর অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা শিশুটিকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এ ঘটনা চরম অবহেলা, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও সার্বিকভাবে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থার প্রতিফলন।