শুল্ক অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করল ইইউ
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্রাসেলস।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তার আগের বৈশ্বিক শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে। এই রায় আসার পরও ট্রাম্প নতুন করে সার্বিক ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এ প্রেক্ষাপটেই ইইউর এই সিদ্ধান্ত আসে।
ডয়চে ভেলে জানায়, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটি মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পপণ্যে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এটি ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সেই ভোট এখন স্থগিত করা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র ওলোফ গিল বলেন, ওয়াশিংটন থেকে স্পষ্টতা না পাওয়া পর্যন্ত ব্রাসেলস আর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের গিল বলেন, 'আমরা আমাদের মার্কিন সমকক্ষদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছি।'
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জুলাইয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন ট্রাম্পের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছান। এতে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় অধিকাংশ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে সম্মত হওয়া হয়। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ইইউর বহু আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়।
আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক এই চুক্তি কার্যকর করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।
ট্রাম্প ঘোষিত সর্বশেষ ১৫ শতাংশ শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হচ্ছে। কংগ্রেস মেয়াদ বাড়ালে তবেই তা ১৫০ দিনের বেশি বহাল থাকবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান বের্ন্ড ল্যাঙ্গে বলেন, ইইউ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে ১৫ শতাংশ সীমা নির্ধারিত থাকলেও নতুন মার্কিন শুল্কের ফলে কিছু পণ্যে ইইউকে সম্ভাব্যভাবে আরও বেশি করের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
ডয়চে ভেলে জানায়, ওয়াশিংটন পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছে কি না, তা মূল্যায়নে ইইউ আইনপ্রণেতারা ৪ মার্চ বৈঠকে বসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।