ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ আটকে গেল সিনেটে

স্টার অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে সিনেটে আনা একটি প্রস্তাব ব্যর্থ হয়েছে। বিবিসির খবরে এমনটি বলা হয়েছে।

ইরানে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা কমানোর লক্ষ্যে গতকাল বুধবার আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ৪৭ জন এবং বিপক্ষে ৫৩ জন সিনেটর ভোট দেন।

ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ট্রাম্প কংগ্রেসকে উপেক্ষা করেছেন এবং যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণ উপস্থাপন করেছেন। বেশির ভাগ রিপাবলিকান প্রস্তাবটি আটকে দিয়েছেন। তবে কয়েকজন বলছেন, সামনে কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়লে তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। 

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন যে, এই যুদ্ধ আট সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ চার সপ্তাহ চলতে পারে।

বুধবারের ভোটাভুটিতে দুইজন সিনেটর দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জন ফেটারম্যান এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন, অন্যদিকে কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল এর পক্ষে ভোট দেন। এ দুজন ছাড়া অন্য সবাই নিজ নিজ দলীয় অবস্থান অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন।

মেইন অঙ্গরাজ্যের মধ্যপন্থী রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। পরে তিনি বলেন যে, এই আইন পাস হলে তা ইরান ও মার্কিন সেনাদের কাছে ভুল বার্তা পাঠাত।

প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ার আগে সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার বলেন, আপনারা কি সেই  আমেরিকান জনগণের পাশে আছেন, যারা মধ্যপ্রাচ্যের চিরস্থায়ী যুদ্ধে ক্লান্ত, নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পিট হেগসেথের পাশে থাকবেন, যারা আমাদের হোঁচট খাইয়ে আরেকটি যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন?

প্রস্তাবটি আজ বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ভোটের জন্য যাবে, যেখানে এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপক ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের রয়েছে, তবে সংঘাত শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবশ্যই জানাতে হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন সেই শর্ত পালন করেছে।

হামলা শুরুর আগেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের জানানো হয়েছিল এবং সোমবার এক চিঠির মাধ্যমে ট্রাম্প কংগ্রেসকে অবহিত করেন, যদিও তিনি দাবি করেছিলেন যে এর প্রয়োজন ছিল না।

ট্রাম্প এর আগেও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন সময় সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেমন গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযান।

সাবেক সিনেটর রুবিও বলেন, প্রথমত, রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটিক—কোনো প্রেসিডেন্টের প্রশাসনই কখনো যুদ্ধ ক্ষমতা আইনকে সাংবিধানিক হিসেবে মেনে নেয়নি।

ভিয়েতনামে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের যুদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত করতে ১৯৭৩ সালে কংগ্রেস ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন পাস করেছিল।

এর অধীনে প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আইনপ্রণেতাদের বিষয়টি জানাতে হবে এবং সংঘাত শুরু হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন (এইউএমএফ) পাস করতে হবে।

মার্কিন প্রশাসনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বৈধতা হিসেবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর পাস হওয়া এইউএমএফের ওপর নির্ভর করে আসছে।