খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনে কেন দেরি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতের পর ইতোমধ্যে এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো তার উত্তরসূরি ঘোষণা হয়নি।
কেন এই বিলম্ব—বিশ্লেষকদের মতামতের ভিত্তিতে তার ব্যাখ্যা দিয়েছে সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস ও আল জাজিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের দুই কর্মকর্তার বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই খামেনির উত্তরসূরি ঘোষণার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে ইরান।
তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন নেতাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে—এমন মন্তব্যের পর এই বিলম্ব হচ্ছে।
ওই দুই কর্মকর্তারা আরও বলেন, ‘সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম সামনে এসেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার নাম ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।’

প্রতিবেদনে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
ট্রাম্প বলেছেন, মোজতবা খামেনিকে তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তারা সময় নষ্ট করছে। খামেনির ছেলে দুর্বল এবং গ্রহণযোগ্য নয়।’
খামেনির নীতি অনুসরণ করেন— এমন নেতা ক্ষমতা এলে পাঁচ বছরের মধ্যে আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে যাকেই নির্বাচিত করা হোক না কেন, তাকে নিশ্চিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হুমকির কারণে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণায় বিলম্ব করছে ইরান।
এ বিষয়ে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক সিনা আজোদি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘ইরানি কর্মকর্তারা নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা যতটা সম্ভব বিলম্বিত করার চেষ্টা করবেন, যাতে তার ওপর হামলা এড়ানো যায়।’
তবে উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং মোজতবা খামেনি এই পদে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোহরেহ খারাজমি মনে করেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হয়তো ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে এখনো তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নেতার জীবন রক্ষা করা খুবই যৌক্তিক বিষয়। এটি একটি যুক্তিসঙ্গত নিরাপত্তা প্রটোকল।’
ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস উত্তরসূরি নির্বাচন প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন, এমন খবর গুজব বলে জানান খারাজমি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোজতবা খামেনি যদি শেষ পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন, তাহলে দেশটিতে কঠোর রক্ষণশীল শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার আড়ালে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।