ট্রাম্প প্রশাসনকে যেভাবে ব্যঙ্গ করছে ইরানের দূতাবাসগুলো
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা সামরিকভাবে মোকবিলার পাশাপাশি কূটনৈতিক মঞ্চে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপকেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান।
সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানি দূতাবাসগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্প প্রশাসনকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করেছে।
আল জাজিরাসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ইরানে মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের দূতাবাস একটি এআই নির্মিত ভিডিও ও একটি ছবি পোস্ট করেছে।
লেগো ভিডিও গেমের আদলে তৈরি ৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখানো হয় কীভাবে একজন সাহসী ইরানি যোদ্ধা মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
অন্য পোস্টটিতে ‘এয়ার ফোর্স’কে লেখা হয়েছে ‘চেয়ারফোর্স’।

ট্রাম্পের ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ নিয়েও ব্যঙ্গ করে ছবি পোস্ট করেছে দূতাবাসটি।
যুক্তরাজ্যে ইরানের দূতাবাসও ট্রাম্প প্রশাসনকে ব্যঙ্গ করে একই ধরনের পোস্ট দিয়েছে। পোস্টে তুলনামূলক ছবিতে দেখানো হয় ট্রাম্প ও ইরানের অবস্থা।

আরেকটি পোস্টে ট্রাম্পের তেল নিয়ে দেওয়া একটি পোস্টের অংশবিশেষ শেয়ার করেছে দূতাবাস। সেখানে বলা হয়, ‘তেল উপসাগরেই আছে।’

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানকে ‘পাথর যুগে ফেরত পাঠানোর’ হুমকি দেওয়ার পর তার জবাবে থাইল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দূতাবাস একটি ঐতিহাসিক শিলাচিত্রের ছবি পোস্ট করে।
সেখানে পারস্যের সম্রাট প্রথম শাপুরকে দেখানো হয়—যিনি যুদ্ধে এক রোমান সম্রাটকে বন্দি করেছিলেন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে ইরান ইঙ্গিত দিতে চেয়েছে যে ইতিহাসে তারা শক্তিশালী সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধেও দাঁড়িয়েছে এবং জয়ী হয়েছে।
দূতাবাসগুলোর এসব পোস্টের বাইরে সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি এআই-নির্মিত ভিডিও।
যেখানে লেগো-স্টাইল অ্যানিমেশনের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে।

ভিডিওতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, বিতর্কিত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা এড়াতেই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরানের এই ভিডিও মূলত হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ডিজিটাল কৌশলেরই পাল্টা জবাব।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রও তাদের সরকারি বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে ইরানে সামরিক অভিযানের নানা ভিডিও-ছবি পোস্ট করেছে।
যেখানে বাস্তব ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফুটেজের সঙ্গে মিম, পপ কালচার রেফারেন্স এবং ভিডিও গেমের ভিজ্যুয়াল যুক্ত করা হয়েছে।
অনলাইন বয়ান নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিগত ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনই এসব পোস্টের মূল লক্ষ্য।
বাস্তবে ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন দিয়ে যেমন হামলা-পাল্টা হামলা চলছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কূটনৈতিক বার্তা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরির লড়াই অব্যাহত।