আগামী দুই বছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে বিবিসি

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আর্থিক চাপ ও পরিবর্তিত গণমাধ্যম বাস্তবতার কারণে আগামী দুই বছরে সর্বোচ্চ ২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে ব্রিটিশ সম্প্রচার সংস্থা বিবিসি।

আজ বুধবার বিবিসির সংবাদ সম্প্রচারে এই পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

বিবিসির অন্তর্বর্তীকালীন মহাপরিচালক রড্রি ট্যালফান ডেভিস কর্মীদের উদ্দেশে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের এখনো বিস্তারিত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে আমরা ধারণা করছি, মোট চাকরির সংখ্যা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার পর্যন্ত কমে যেতে পারে।’

এএফপিকে পাঠানো আরেক বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে ‘উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপের’ মুখে রয়েছে, যা দ্রুত মোকাবিলা করা জরুরি।

তিনি আরও জানান, বিবিসিকে তাদের ৫ বিলিয়ন পাউন্ড পরিচালন ব্যয় থেকে ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড কমাতে হবে। এই সাশ্রয়ের বড় অংশ ২০২৭ ও ২০২৮ সালের মধ্যে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইটিভি নিউজ ও দ্য প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে সংস্থাটির সবচেয়ে বড় চাকরি ছাঁটাই হতে যাচ্ছে।

এএফপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসার এবং দর্শকদের পরিবর্তিত অভ্যাসের প্রভাবে অস্থির হয়ে ওঠা গণমাধ্যম পরিবেশের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি প্রামাণ্যচিত্রে তার ২০২১ সালের ভাষণ বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, ওই সম্পাদনার ফলে মনে হয়েছে তিনি সমর্থকদের কংগ্রেস ভবনে হামলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

নতুন মহাপরিচালক হিসেবে সাবেক গুগল নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন আগামী মাসে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তার নিয়োগকে সংস্থাটিকে ‘রূপান্তরের মধ্য দিয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এএফপি জানায়, বিবিসির অর্থায়ন মূলত জনগণের দেওয়া লাইসেন্স ফি থেকে আসে, যার মাধ্যমে তাদের অনুষ্ঠান দেখা বা শোনা যায়।

বিবিসি জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের ৯৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি মাসে তাদের সেবা ব্যবহার করেন।

মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, ২০১৭ সালের পর থেকে লাইসেন্স ফি থেকে তাদের আয় বাস্তব অর্থে ২৪ শতাংশ কমে গেছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লাইসেন্স ফি থেকে আয়ের চাপসহ অন্যান্য কারণে ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে মোট ব্যয় আরও ১০ শতাংশ কমাতে হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, কঠিন সিদ্ধান্তের ফলে কনটেন্ট ও সেবায় কাটছাঁট করতে হতে পারে।