ইরানে হত্যা বন্ধের আশ্বাস পেয়েছি, বললেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশ্বাস পেয়েছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে। একই সময়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, (বিক্ষোভকারীদের) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের 'কোনো পরিকল্পনা নেই' তেহরানের।
ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর সংকট মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং পরিকল্পিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে কাতারের একটি বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সদস্য প্রত্যাহারের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প বলেন, তিনি 'অন্য পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলোর' সঙ্গে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় তা তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন, তবে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করেননি।
'পরিস্থিতি কোন পথে এগোয়, তা আমরা দেখব,' বলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র একটি 'খুব ইতিবাচক বক্তব্য' পেয়েছে।
একইদিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আরাগচি বলেন, 'ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'ফাঁসির বিষয়টি একেবারেই বিবেচনায় নেই।'
জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে, সে ক্ষেত্রে পাল্টা জবাব দিতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছে তেহরান।
ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরান 'উপযুক্ত' জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের পেছনে এই দুই দেশকে দায়ী করেন।
এক লিখিত বিবৃতিতে পাকপুর বলেন, 'শত্রুপক্ষ যদি কোনো ভুল হিসাব করে, তার জবাব দিতে আইআরজিসির সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে।'
পাকপুর আরও অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু 'ইরানের তরুণদের হত্যাকারী।'
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজকে বলেন, ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের পর সরকার এখন পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ডিসেম্বরে স্থানীয় মুদ্রার পতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে দোকানিরা রাস্তায় নামলে বিক্ষোভের সূচনা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।
দেশব্যাপী বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক—এমন প্রতিবেদনের কথা স্বীকার করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। তারা শহীদ ফাউন্ডেশনের প্রধানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছে, এর জন্য 'সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী' দায়ী।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, টানা দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধী অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং এতে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীও রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা দুই হাজার ৪০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী এবং ১৫০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী ও সরকারপন্থীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে আল জাজিরা এসব সংখ্যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বর্তমানে ইরান প্রায় সম্পূর্ণ টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত এই শাটডাউন ১৪৪ ঘণ্টা ছাড়িয়ে গেছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বুধবার জানায়, গত এক সপ্তাহে ইরানে 'নজিরবিহীন মাত্রায় ব্যাপক বেআইনি হত্যাকাণ্ডের' প্রমাণ তারা পর্যালোচনা করেছে, যার মধ্যে 'বেশিরভাগই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও পথচারী।'