সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উসকানিতে পরিকল্পিত ‘ক্যু’: খামেনি
ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও শিগগির তা সরকার ও বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নেয়। সরকারি বাহিনীর উদ্যোগে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে ওই বিক্ষোভ।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এই বিক্ষোভকে স্বাভাবিক, জনরোষ থেকে আসা প্রতিবাদ ভাবতে রাজি নিন। তিনি এর পেছনে খুঁজে পেয়েছেন গভীর ষড়যন্ত্র। এই তথাকথিত 'বিক্ষোভকে' তিনি শাসক পরিবর্তনের প্রচেষ্টায় পরিকল্পিত ক্যু আখ্যা দিয়েছেন। দাবি করেছেন, এতে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধন রয়েছে।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি ও ইরানের গণমাধ্যম ইরনা।
খামেনি বলেন, 'তারা (বিক্ষোভকারীরা) পুলিশের ওপর, সরকারি দপ্তর, বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা চালায়। তারা কুরআন পুড়িয়েছে। এটা ক্যু-এর মতো ছিল'।
'বিক্ষোভে প্রশিক্ষিত চক্রান্তকারীরা অংশ নিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে মেতেছেন। তাদের অনেকে এসব কাজে অংশ নেওয়ার জন্য অর্থ ও নির্দেশনা পাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন', যোগ করেন খামেনি।
চক্রান্তকারীদের পাশাপাশি 'আবেগী' তরুণ-তরুণীরাও না বুঝে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন খামেনি।
'ওই ক্যু প্রচেষ্টা দমন করা হয়েছে', বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'তেহরানে রাষ্ট্রবিরোধী কাজের প্রথম উদাহরণ নয়। এবং এটাই শেষ নয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি হবে।'
বিক্ষোভ প্রশমনে কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন-পীড়ন নীতির জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দেন। শুধু হুমকি দিয়েই বসে থাকেননি রিপাবলিকান নেতা। মধ্যপ্রাচ্যের পূর্বাঞ্চলে মার্কিন নৌবহর ও রণতরীও মোতায়েন করেন তিনি।
এর আগে জুনে ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধে মিত্র তেল আবিবের সহায়তায় এগিয়ে আসে ওয়াশিংটন। তেহরানের পরমাণু প্রকল্পে বিমান হামলা চালায় দেশটি। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে সংঘাতের অবসান ঘটে।
রোববার খামেনি আমেরিকানদেরও হুমকি দেন। বলেন, 'আমেরিকানদের একটা কথা জেনে রাখা উচিৎ। তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে সেই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।'
প্রয়াত আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি'র ৪৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন খামেনি।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত পাহলভি রাজবংশের তৎকালীন শাসক।
এরপর ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের গোড়াপত্তন করেন রুহুল্লাহ খোমেনি, যা এখনো চালু আছে।
খামেনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে 'ইরানকে গিলে ফেলে' রাজতন্ত্রের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।
'তারা আমাদের দেশের দখল নিতে যায়। যেমনটা তারা ৩০ বছর দখল করে রেখেছিল। তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল দেশের সব সম্পদ। সব তেল। এমন কী রাজনীতিও', যোগ করেন তিনি।
খামেনি বলেন, '(সে সময়) তাদের হাত কেটে ফেলা হয়। (কিন্তু এখন) তারা (আবার) পাহলভি যুগের মতো পরিস্থিতিতে দেশকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।'
ইরানে জীবনযাপনের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। খুব শিগগির তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। তবে দেশটির নেতাদের দাবি, এসব 'রায়টে' ইন্ধন যুগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
তেহরান স্বীকার করেছে, বিক্ষোভ চলাকালে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তাদের দাবি, নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সড়কে থাকা নিরীহ মানুষ। সহিংসতার ঘটনাগুলোকে তারা 'সন্ত্রাসী কার্যক্রম' আখ্যা দিয়েছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএনএন)-এর দাবি, ইরানের আন্দোলনে ছয় হাজার ৭১৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী।


