ইরানে ৮০০ ফাঁসি স্থগিত, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে 'সব বিকল্পই বিবেচনায় রয়েছে' বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। 

একইসঙ্গে তারা আবারও সতর্ক করে বলেছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে তেহরানকে 'ভয়াবহ পরিণতির' মুখে পড়তে হবে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন— 'হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।'

লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রেসিডেন্ট আজ জানতে পেরেছেন, গতকাল কার্যকর হওয়ার কথা থাকা ৮০০ ফাঁসি স্থগিত করা হয়েছে।' তবে মৃত্যুদণ্ডগুলো সত্যিই স্থগিত হয়ে গেছে, এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন, 'প্রেসিডেন্ট এবং তার প্রশাসন এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।'

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়ে বলেছিল, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে থাকে তবে দেশটিতে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ চলবে। ইরানের দিক থেকেও পাল্টা হুমকি এসেছিল।

 ইরানে মুদ্রার পতন, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানে প্রতিবাদে নামেন দোকানি ও ব্যবসায়ীরা। সেই প্রতিবাদ একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই বিক্ষোভে হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের অস্ত্রধারী দাঙ্গাবাজ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার প্রধান আঞ্চলিক মিত্র ইসয়েলের সমর্থন রয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে শতাধিক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে আল জাজিরা এই মৃত্যুর সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।