‘সব চুক্তির সেরা চুক্তিতে’ রাজি ভারত-ইইউ: মোদি

By স্টার অনলাইন ডেস্ক

এক নজিরবিহীন বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি হয়েছে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে 'সব চুক্তির সেরা চুক্তি' আখ্যা দেন।

আজ মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে দুই পক্ষের বৈঠকে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকতা পায়।

ভারতের গণমাধ্যম হিন্দু জানিয়েছে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এ বছরের পরবর্তী অংশে এটি সাক্ষর হবে এবং আগামী বছরের শুরু থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। ২০০৭ সালে এই চুক্তির বিষয়ে দরকষাকষি শুরু হয়। দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো অবশেষে।

India EU Deal
ভারত-ইইউ ঐতিহাসিক চুক্তির তিন কাণ্ডারি। ছবি: রয়টার্স

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই দশকের দরকষাকষির পর এই চুক্তি আলোর মুখ দেখতে চলেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হবে এই চুক্তি।

আজ মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ফন দার লেইয়েন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে বৈঠকের আগে মোদি মন্তব্য করেন, 'এটাই সব চুক্তির সেরা চুক্তি। সারা বিশ্বের মানুষ এখন এটা নিয়ে আলোচনা করছে।'

মোদি বলেন, 'ভারতের ১৪০ কোটি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোটি কোটি মানুষের জন্য অসংখ্য সুযোগ নিয়ে আসবে এই চুক্তি।'

তিনি আরও জানান, এই চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক তৃতীয়াংশ ও জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত।

সোমবার ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে আমন্ত্রণ পান ইইউ নেতারা। মঙ্গলবারে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তারা।

বেশ কিছুদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতকে ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে ইইউ।

পাশাপাশি, নয়াদিল্লিও দ্রুত তাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও লাখো চাকরি সৃষ্টির জন্য ইউরোপীয় ব্লককে অতি জরুরি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে।

চুক্তির আওতায় ভারতে গাড়ি ও মদের মতো ইউরোপীয় পণ্য আরও সহজে প্রবেশ করতে পারবে। বিনিময়ে সহজ হবে ভারতের পোশাক ও ওষুধসহ অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি।

India EU Deal
নতুন চুক্তির ফলে ভারতে বিএমডব্লিউ-এর মতো ইউরোপীয় গাড়ির দাম কমে আসতে পারে। ছবি: রয়টার্স

ফন দার লেইয়েন রোববার দাবি করেন, এর আগে ভারতের 'রক্ষণশীল' বাজারে এতটা অবাধ প্রবেশাধিকার পায়নি কোনো বাণিজ্য অংশীদার।

তিনি বলেন, 'আমরা গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য খাতে উল্লেখযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাব', যোগ করেন তিনি।

ভারতের তৈরি পোশাক, মূল্যবান পাথর ও গয়না, চামড়াজাত পণ্য ও সেবাখাতে বিশেষ সুবিধা পাবে বলে জানান মোদি।

চুক্তির আওতায় ইইউ ভারতে গাড়ি, মদ ও খাদ্য রপ্তানিতে শুল্ক কমাবে।

সোমবার দুই পক্ষের আলোচনা শেষ হয়। আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল ইস্পাতের ওপর ইইউর 'কার্বন বর্ডার শুল্ক' আরোপের প্রভাব।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক যুদ্ধ ও চীনে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগের মোকাবিলায় ব্রাসেলস ও নয়াদিল্লি নতুন বাজারের অনুসন্ধানে এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়েছে।

বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি ভারত-ইইউ অস্থায়ী কর্মী, শিক্ষার্থী, গবেষক ও উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন পেশাদারদের যাওয়া-আসা সহজ করার জন্য একটি সমঝোতা চুক্তিতেও সম্মতি দেবে বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিয়েও উভয় পক্ষ চুক্তিতে আসতে পারে।

India EU Deal
তিন নেতার হাত ধরে 'সব চুক্তির সেরা চুক্তি' করল ভারত-ইইউ। ছবি: রয়টার্স

ফন দার লেইয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলেন, 'ভারত ও ইউরোপ স্পষ্টতই একে অপরকে বেছে নিয়েছে। আমাদের বেছে নেওয়া এই বিকল্পের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব, আলোচনা ও স্পষ্টবাদিতা জড়িয়ে আছে।'

গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপকরণের জন্য বেশ কয়েক দশক ধরে মস্কোর ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ভারত। এই নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। এই চুক্তি সেই উদ্যোগেরই অংশ। এর সঙ্গে জড়িত আছে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করার স্বদিচ্ছা ও পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ।

একই কৌশল বেছে নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। অতিমাত্রায় যুক্তরাষ্টের ওপর নির্ভরশীল থাকার 'বেদনা' থেকে বের হয়ে আসতে চায় তারা।