গল্প

অজানা দ্বীপ

মিশেল আয়াত খান

সমুদ্রের প্রবল স্রোতের ঢেউয়ে আমাদের নৌকাটি দ্রুত এগিয়ে চলছিল। হঠাৎ ঝড় শুরু হলে নিয়ন্ত্রণ হারাল। এক ঝটকায় আমরা সাগরে পড়ে গেলাম। চোখ খুলতেই দেখি, একটি অজানা দ্বীপে পৌঁছেছি।

প্রথমে সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছিল। তাই কয়েকবার দু’হাত দিয়ে চোখ দুটো ডলে দেখলাম। কিন্তু কোনো স্বপ্ন নয়! সত্যি আমরা ছোট একটি বিরান দ্বীপে পৌঁছেছি। চারপাশে আবছা অন্ধকার। গাছগুলো মরে গেছে। খুব ঠাণ্ডা, আর সবকিছু ভেজাভেজা। কিছুটা দূরে একটি নদী দেখা যাচ্ছে। কিন্তু নদীটা শুকিয়ে গেছে।

আমি, মা, বাবা ও আমার ছোট বোন এই নৌকার যাত্রী ছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম, স্কুল শুরুর আগে একটু ঘুরে আসি। তবে তা আর হলো কই!

আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘এখানে কীভাবে এলাম?’

কিন্তু অবাক ব্যাপার কী জানো? তারাও একই কথাই বলল! 

দেখতে দেখতে চার দিন কেটে গেল। আমাদের সঙ্গে থাকা খাবার পানি শেষের দিকে। সেখানে ছোট একটা ঘরের মতো বানিয়েছিলাম। সেটাও ভেঙে যাচ্ছে।

এখন আমরা কী করব? হঠাৎ দেখি মরা গাছের মধ্যে থেকে একটি বিড়াল বেরিয়ে এলো। সাদা-কালো রঙের বিড়াল। 
বিড়ালটির একটি পা কেটে গেছে। ঠিকঠাক হাঁটতে পারছে না। তার এই অবস্থা দেখে আমার পোষা বিড়ালের কথা মনে পড়ল।
আহত বিড়ালটির জন্য মায়া হলো। কিছু একটা করতে পারলে ভালো হতো। তখন মনে পাড়ে, আমার ব্যাগে ওষুধ ও ব্যান্ডএইড আছে। অবশ্য আর মাত্র একটি ব্যান্ডএইড আছে। আমার জন্য রেখেছিলাম।

ওটা আর নিজে ব্যবহার করলাম না। কারণ আমার এখন বিড়ালটিকে সাহায্য করা দরকার। কোনো প্রাণী বিপদে পড়লে তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। এভাবে সন্ধ্যা নেমে এলো। ঘুমে দুই চোখ বুজে আসছে। আমিও ঘুমে ঢুলে ঢুলে পড়ছি।

ওমা! তখনই বিড়ালটা আমাকে অবাক করে দিলো। সে আমাকে ডাকছে।

বিড়াল আমাকে কী বলেছিল জানো? বলেছিল, ‘এখন ঘুমিয়ে যাও। তুমি ভীষণ ভালো মানুষ।’

আমিতো অবাক! কিছু বলতে যাব, কিন্তু পারলাম না। সে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিলো।

তারপর যখন ঘুম ভাঙল আমি আরও অবাক! কেনই বা অবাক হবো না? আমি বাড়িতে, বিছানায় শুয়ে আছি!

মা বললেন, এসব নিয়ে আর কোনো কথা নয়।

তবে এ ঘটনা আমি ভুলতে পারিনি। এখনো রাস্তায় কোনো সাদা-কালো বিড়াল দেখলে তাকিয়ে থাকি। আর ভাবি, এটাই কি সেই বিড়াল?

(মিশেল আয়াত খান, স্যার জন উইলসন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী)