চা-কফি খেলে কি আসলেই ঘুম চলে যায়?

স্মৃতি মন্ডল
স্মৃতি মন্ডল

চা ও কফি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই দুই পানীয়ের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অনেকের দিনের শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে, সকাল-বিকেলের আড্ডা কিংবা কাজের ফাঁকেও চা-কফি পান করা একটি সাধারণ অভ্যাস। এছাড়া ঘুমঘুম ভাব দূর করতে অনেকেই চা বা কফির শরণাপন্ন হন।

চা-কফি খেলে আসলেই ঘুম চলে যায় কি না, এই সম্পর্কে জানিয়েছেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদ।

চা-কফি খেলে কি ঘুম চলে যায়?

ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদ বলেন, চা-কফি পান করলে ঘুম চলে যায়। কারণ চা কিংবা কফি পানে স্নায়ু উদ্দীপ্ত হয়। আর স্নায়ুকে উদ্দীপ্ত করার এই কাজটা করে ক্যাফেইন। প্রতি মিলিগ্রাম চা পাতায় প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ক্যাফেইন থাকে। আর সমপরিমাণ কফির বিনে থাকে প্রায় ১ দশমিক ১ থেকে ২ দশমিক ২ শতাংশ। এর মানে দাঁড়ায় প্রতি মিলিগ্রামে কফির চেয়ে চায়ে বেশি ক্যাফেইন থাকে।

তবে গড়ে ১০০ গ্রাম চা-তে প্রায় ১১ গ্রাম ক্যাফেইন থাকে, আর কফিতে প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে ৪০ গ্রাম ক্যাফেইন। এর কারণ কফি অনেক ঘনীভূত করে তৈরি করা হয় বলে অল্প পরিমাণ কফি থেকে আমরা বেশি ক্যাফেইন পাই। চা-কফিতে ক্যাফেইনের মাত্রা ভিন্ন হয়। সেজন্যই ঘুম তাড়ানো বা স্নায়ু উদ্দীপ্ত করার কাজে চা-কফি বেশি কার্যকরী।

চা-কফি খেলে কেন ঘুম চলে যায়?

ক্যাফেইন একটি সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম স্টিমুল্যান্ট। এটি মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিন নামক রাসায়নিকের রিসেপ্টর ব্লক করে। অ্যাডেনোসিন শরীরে ক্লান্তি ও ঘুমঘুম ভাব তৈরি করে। ক্যাফেইন এই অ্যাডেনোসিনের কাজে বাধা দেওয়ার ফলে স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়ে, মনোযোগ ও সতর্কতা বৃদ্ধি পায় এবং ঘুম ভাব কেটে যায়।

ঘুম তাড়াতে চা-কফি খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি

অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে অনিদ্রার সমস্যা হয়। ফলে পরিপূর্ণ ঘুমের অভাবে অনেকের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় ও মনোযোগে ঘাটতি হয়। স্বাভাবিক সময়েও ঘুম আসতে অনেক সময় লাগে। ওজন ও ক্ষুধা কমে যাওয়ার এটাও একটা কারণ।

খালি পেটে চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেক ক্ষেত্রেই গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যার সৃষ্টি করে। বুক জ্বালা-পোড়া, বুকে ব্যথা, পেট ভারী হয়ে থাকা ও অতিরিক্ত বায়ু নির্গমনের সমস্যায়ও ভুগে থাকেন অনেকে।

সকালে নিয়মিত চা-কফি অনেক ক্ষেত্রেই ডিপেন্ডেন্সি বা আসক্তি তৈরি করে। ফলে কোনো একদিন চা-কফি বাদ গেলেই মাথাব্যথার সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা সারাদিনের কর্মকাণ্ডকে বিঘ্নিত করে। অতিরিক্ত কফি খেলে মাথাব্যথার সমস্যা বাড়বে। মাইগ্রেন থাকলে এই অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।

অতিরিক্ত ক্যাফেইনের কারণে হৃৎকম্পন বেড়ে যেতে পারে, এমনকি উচ্চরক্তচাপের রোগীকে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।

ক্যাফেইন সাময়িকভাবে মানুষকে চাঙা করলেও, পরবর্তী সময়ের জন্য শরীরে ক্লান্তি ও অবসাদ তৈরি করে, যা কর্মস্পৃহা নষ্ট করে।

চা-কফির পরিমাণ

ডা. হাসান মোস্তফা রাশেদ বলেন, বেশিরভাগ ব্যক্তির দেহেই ক্যাফেইন কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। তবে বেশি ক্যাফেইন আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর। তবে কারও কারও নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি ক্যাফেইন গ্রহণের পরও তার তেমন অসুবিধা হয় না। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ১ থেকে ২ কাপ কফি আমাদের জন্য যথেষ্ট।