কিশোরগঞ্জের অলওয়েদার সড়ক পানিপ্রবাহে বাধা দিচ্ছে কি না তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নির্মিত অলওয়েদার সড়ক পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে কি না, তদন্তে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।

আজ শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী জানান, কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। কোনো সমস্যা চিহ্নিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার কৃষকসমাজের ওপর গভীর আস্থা রাখে ও কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল হারালে কৃষকের যে কষ্ট হয়, সরকার তা উপলব্ধি করে।’

ভেজা ধান সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কোটার মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে প্রকাশ্য ঘোষণার মাধ্যমে ধান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা ন্যায্যমূল্য পান।’

এদিকে, অনুকূল আবহাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় মেদির হাওর ও আশপাশের জলাভূমিতে পানির স্তর কিছুটা কমেছে। তলিয়ে যাওয়া ধানক্ষেত ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আবহাওয়ার উন্নতির কারণে কৃষকরা কাটা ধান শুকানোর সুযোগও পাচ্ছেন।

তবে এখনো বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে থাকায় ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৫০০ কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করেছে প্রশাসন। মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলেও জানা গেছে। এ কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতিজনকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৩০৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি।