সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের অভিযানে সাংবাদিক ও ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে দুই মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন— বাংলানিউজ২৪.কম-এর তোফায়েল আহমেদ (২৫) এবং আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন (২৭)।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল পুলিশ সদস্য তোফায়েলকে লাঠি দিয়ে নির্বিচারে পেটাচ্ছেন। পরে অন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে সংবাদমাধ্যমকে তোফায়েল জানান, অভিযানের ভিডিও ধারণ করতে গেলে পুলিশ তাকে বাধা দেয়। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে চার-পাঁচজন কনস্টেবল মিলে তাকে মারধর শুরু করেন।
সহকর্মী তোফায়েলকে বাঁচাতে গেলে হামলার শিকার হন সাংবাদিক রিপন আহমেদও। তিনি বলেন, পুলিশকে থামতে বলায় তারা আমাকে ভিডিও করতে বাধা দেয় এবং লাঠি দিয়ে আমার পায়ে আঘাত করে।
এ বিষয়ে রমনা ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম দাবি করেন, এটি একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’। তিনি বলেন, একজন মাদকাসক্তের ছুরিকাঘাতে এক পুলিশ সদস্যের ভ্রু কেটে যায়। সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সাংবাদিকদের সাথে আইডি কার্ড না থাকায় পুলিশ সদস্যরা ভুলবশত তাদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন।
ডিসি এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে অভিযান চলাকালে ঢাবির তিন শিক্ষার্থীকেও আটক করা হয়। তাদের মধ্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের ঢাকা মহানগর ইউনিটের আহ্বায়ক নাঈম উদ্দিনকে পুলিশের মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, নাঈম ডিসি মাসুদ আলমের সাথে কথা বলার সময় হঠাৎ এক পুলিশ সদস্য তাকে পেছন থেকে টেনে-হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন।
নাঈম উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘বহু ভাষার সন্ধ্যা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করছিলেন এবং ফেরার পথে পুলিশের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, তারা আমাদের কাছে অবৈধ কিছু না পেয়ে অভিযোগ তোলেন যে আমরা নাকি তাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছি। আমার মাথা, হাত ও পায়ে চোট লেগেছে। আমার সঙ্গ থাকা আরও এক বন্ধুকেও তারা মেরেছে।
নাঈমকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন,সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে তল্লাশি করতে চাইলে তিনি বাধা দেন এবং তর্কে লিপ্ত হন। তখন একজন পুলিশ সদস্য তাকে পেছন থেকে টেনে নামান। তবে তিনি নিজে হস্তক্ষেপ করে পুলিশ সদস্যদের থামিয়েছেন বলেও জানান।
নাঈমের কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলে স্বীকার করেন মাসুদ আলম। তবে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আটক তিন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়।