যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সংসদ ও সংসদের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'চুক্তিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করা হবে। তার আগে এটি নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা হবে। প্রয়োজন হলে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলব।'
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের অর্থনীতি, সাধারণ মানুষ এবং বেসরকারি খাত—সবই এই বাণিজ্য ও অন্যান্য চুক্তির মাধ্যমে প্রভাবিত হবে।'
তবে চুক্তিটি পুর্নমূল্যায়ন করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিটি সই করে। বিষয়টি নিয়ে পরে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর রপ্তানি শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করে। বিনিময়ে বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এছাড়া চুক্তিতে চীনের মতো 'নন-মার্কেট ইকোনমি'র দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধমূলক ধারা রয়েছে।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছিলেন, চুক্তি সইয়ের আগে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল।
তিনি জানান, চুক্তিতে 'এন্ট্রি' ও 'এক্সিট' উভয় ধারা রয়েছে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ ৬০ দিনের নোটিশে এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।
মার্কিন কংগ্রেসে ১৯৭১ সালের গণহত্যার স্বীকৃতির প্রস্তাব উত্থাপন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিএনপি সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেবে।
তিনি বলেন, 'সরকার ২৫শে মার্চ কালরাত পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা এই স্বীকৃতির বিষয়টি নিয়ে কাজ করব।'