ভিলিয়ার্স তান্ডব নেই, তবু দ.আফ্রিকা করল ৩৬৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

ব্যাটে ঝড় তুলেও পেশিতে টান পড়ায় সেঞ্চুরির আগে থেমেছিলেন ফাফ ডু প্লেসি। সেঞ্চুরি পাননি কুইন্টেন ডি কক, এইডেন মার্করামও। এবার তান্ডব চালানোর আগেই আউট হন এবিডি ভিলিয়ার্স। তবু সম্মিলিত অবদানে ৬ উইকেটে ৩৬৯ রান করে ফেলল দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশকে জিততে হলে করতে হবে রেকর্ড ৩৭০ রান। 
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ওপেনিং জুটিতেই ১১৯ রান তুলে ফেলে প্রোটিয়ারা। ৪৮ রান করে টেম্বা বাভুমা আউট হলে ভাঙ্গে সে জুটি। ৬৮ বলে ৭৩ রান করে আউট হন আরেক ওপেনার ডি কক। এরপরই অভিষিক্ত এইডেন মার্করামকে নিয়ে ইনিংস রানের চাকা সচল রেখে এগুতে থাকেন অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। ৬৭ বলে ১০ চার আর ১ ছক্কায় ৯১ রান করে থামেন তিনি। তবে তাকে আউট করতে পারেননি বাংলাদেশি কোন ব্যাটসম্যান। পেশিতে টান পড়ায় মাঠ ছাড়তে হয় প্রোটিয়া অধিনায়ককে। ৬৬ রান করে ফেরেন মার্করামও। তবে ভিলিয়ার্সের ২০, বেহারদিনের ৩৩ ও শেষদিকে কাগিসো রাবাদার ঝড়ো ২৩ রানে বিশাল সংগ্রহই পায় স্বাগতিকরা। 
৫৯ রানে দুই উইকেট নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজই সবচেয়ে সফল। ৬৬ রানে দুই উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। শেষ দিকে ভালো বল করলেও ১ উইকেট নিতে ৭৫ রান খরচ হয়ে যায় রুবেলের। 
ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্কে আগে ব্যাট করে এটাই সর্বোচ্চ সংগ্রহ। বাংলাদেশকে জিততে হলে নিজেদের রেকর্ড তো বটেই গড়তে হবে এই মাঠ রান তাড়ার রেকর্ডও। 

 

এবার তান্ডবের আগে ভিলিয়ার্সকে থামালেন রুবেল 
আগের ম্যাচে তান্ডব তুলেছিলেন ব্যাটে। এবারও তা করেন কিনা তা নিয়ে ছিল শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত এবিডি ভিলিয়ার্সকে থিতু হতে দেননি রুবেল হোসেন। ১৫ বলে ২০ রান করে রুবেলের বলে মাশরাফির দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হয়ে তিনি ফিরে গেছেন। ভিলিয়ার্স আউট হলেও সাড়ে তিনশর দিকেই আছে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের গতিপথ। 

ইমরুলের থ্রোতে রান আউট মার্করাম 
পেশিতে টান পড়ে ফাফ ডু প্লেসি ফিরে যাওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকলেন না এইডেন মার্করাম। ৬০ বলে ৬৬ রান করে ইমরুলের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়েছেন অভিষিক্ত মার্করাম। ২৮৯ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।


পেশিতে টান পড়ায় থামলেন ডু প্লেসি

ক্রিজে এসেই আউট হতে পারতেন ফাফ  ডু প্লেসি। মিরাজের বলে মাশরাফি রিভিউ না নেওয়ায় বেঁচে যান তিনি। এরপর খেলতেন থাকেন সাবলীল ভাবে। পেতে যাচ্ছিলেন ঝড়ো সেঞ্চুরি। ৬৭ বলে ৯১ রান করার পর পেশিতে টান পড়ে তার। আর খেলতেই পারেননি। সতীর্থদের কাঁধে চড়ে বেরিয়ে যান বাইরে।

ডি কককেও ফেরালেন মিরাজ 

বাভুমার পর আরেক ওপেনার কুইন্টেন ডি কককেও আউট করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অফ স্পিনারের বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে বল উড়াতে গিয়ে আকাশে তুলে দিয়েছেন ডি কক। নিজের বলে সহজ ক্যাচ নিতে কোনই সমস্যা হয়নি মিরাজের। ডি কক আউট হলেন ৭৩ রান করে। ১৩২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারালো দক্ষিণ আফ্রিকা। 

 

বাভুমাকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য মিরাজের 

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ইনসাইড আউট শট খেলতে গিয়েছিলেন টেম্বা বাভুমা। টাইমিংয়ে গড়বড় করায় তা গেল লং অনে দাঁড়ানো লিটন দাসের হাতে। ১১৯ রানে প্রথম উইকেট হারালো দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডে সিরিজে প্রথমবার নেমে উইকেট পেলেন মিরাজ।

বাভুমা এর আগে একটাই ওয়ানডে খেলেছিলেন। সেটিতেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। এবার দ্বিতীয় ম্যাচেও এগুচ্ছিলেন সেদিকেই। কিন্তু ফিফটি থেকে দুই রান আগে এবার থামতে হলো তাকে।

 

আমলা নেই তবু এবারও অনড় দ.আফ্রিকার ওপেনিং জুটি 


হাশিম আমলা নেই। ওপেনিংয়ে কুইন্টেন ডি ককের সঙ্গী টেম্বা বাভুমা। জুটি পাল্টালেও পাল্টালো না চিত্র। প্রথম ম্যাচে ২৮২, দ্বিতীয় ম্যাচে ৯০ রানের ওপেনিং জুটির পর শেষ ম্যাচেও আরেকটি সেঞ্চুরি জুটি এল প্রোটিয়া ওপেনারদের কাছ থেকে। ১৪.৪ ওভারেই ১০০ রান পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকদের সংগ্রহ।

টেস্ট দলের নিয়মিয় সদস্য বাভুমা এরআগে ওয়ানডে খেলেছেন মাত্র একটি। সেটিতেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নেমেও এগুচ্ছে সেদিকেই। আরেকটি ফিফটি তুলে নিয়েছেন ডি কক। তিনিও এগুচ্ছেন আরও বড় কিছুর দিকে।

 

সিরিজে প্রথমবার টস জিতে ব্যাটিং নিল প্রোটিয়ারা 


টেস্ট সিরিজের পর প্রথম দুই ওয়ানডেতেও টস জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হেরেছে সব ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে এই প্রথম টস হারল বাংলাদেশ। ইস্ট লন্ডনে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

শেষ ওয়ানডেতে দুদলেই এসেছে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন। বাংলাদেশ একাদশে চোটে পড়া তামিম ইকবালের জায়গায় ফিরেছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। নাসির হোসেনের জায়গায় একাদশে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এই ম্যাচে অভিষেক হচ্ছে দুজনের। টেস্টের পর ওয়ানডেতেও প্রোটিয়া জার্সি পেলেন এইডেন মার্করাম। জীবনের প্রথম ওয়ানডেতে নেমেছেন তরুণ অলরাউন্ডার ভিয়ান মুল্ডার। জেপি ডুমিনির বদলে এই ম্যাচে নেমেছেন টেম্বা বাভুমা। 

বাংলাদেশ একাদশ:  ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি মর্তুজা, তাসকিন আহমেদ ও রুবেল হোসেন।