দক্ষিণ আফ্রিকার পেসারদের তোপ সামলে অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণের সামনে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলল অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রথম ঘণ্টার ধাক্কা সামলে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সফরকারীরা।
আলোকস্বল্পতার কারণে শুক্রবার ডারবান টেস্টের প্রথম দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। ৬৫.২ ওভার ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১৮ সালের বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারির পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে তারা।
হালকা ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে প্রোটিয়া পেসাররা শুরু থেকেই বাড়তি সুবিধা আদায় করে নেন। বাউন্স ও মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে সফরকারীদের পরীক্ষায় ফেলেন তারা। তিন পেসার আনরিখ নরকিয়া, মার্কো ইয়ানসেন ও ভিয়ান মুল্ডারের প্রত্যেকেই দুটি করে উইকেট নেন।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অজিদের ওপেনিং জুটিতে দেখা যায় ১০ বছর পর টেস্ট খেলতে নামা নিক ম্যাডিনসন ও ট্রাভিস হেডকে। অষ্টম ওভারে মুল্ডারের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে কট বিহাইন্ডের রিভিউয়ে ৯ রানে ফেরেন হেড।
ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা ম্যাডিনসন ক্রিজে লম্বা সময় কাটালেও একেবারেই স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। ৩৩ বল খেলে রান না পেয়ে শূন্য রানে ইয়ানসেনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বল খেলে রানের খাতা খুলতে না পারার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড এখন তার।
২৪ রানে ২ উইকেট পতনের পর সেই ধাক্কা সামলে ৬০ রানের জুটি গড়েন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তারা। লাঞ্চের আগের ওভারে লাবুশেন মুল্ডারের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ৩৭ রান করে। আর বিরতির পর প্রথম ওভারেই ৪৬ রান করা স্মিথকে গালিতে চমৎকার ক্যাচে পরিণত করেন ইয়ানসেন।
এরপর ৪২তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে জোড়া আঘাত হানেন নরকিয়া। চতুর্থ বলে অ্যালেক্স ক্যারিকে (১৪) স্লিপে ক্যাচ বানানোর পর শেষ বলে বাউ ওয়েবস্টারকে (৪) করেন কট বিহাইন্ড। ১২৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে অজিরা তখন মহাবিপদে।
সেই অবস্থান থেকে দিনের বাকি সময়টা অবিচ্ছিন্ন ৬৩ রানের জুটিতে পার করে দেন ম্যাট রেনশ ও প্যাট কামিন্স। পাঁচে নামা রেনশ ৪৮ ও অধিনায়ক কামিন্স ৩৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। আকাশ মেঘলা হওয়ায় আগেভাগে খেলার ইতি টানেন আম্পায়াররা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
(প্রথম দিন শেষে)
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ৬৫.২ ওভারে ১৮৭/৬ (রেনশ ৪৮*, কামিন্স ৩৩*, স্মিথ ৪৬, লাবুশেন ৩৭, ক্যারি ১৪, হেড ৯, ওয়েবস্টার ৪, ম্যাডিনসন ০; মুল্ডার ২/৩১, ইয়ানসেন ২/৩৫, নরকিয়া ২/৪০)।