সরাসরি শেষ ষোলোতে বার্সেলোনা

স্পোর্টস ডেস্ক

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে শুধু ম্যাচই নয়, পুরো লিগ পর্বের সমীকরণ নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নিল বার্সেলোনা। কোপেনহেগেনকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্ব শেষ করল টপ এইটের ভেতরে। পঞ্চম স্থানে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে কাতালান জায়ান্টরা। এই জয়ের ফলে অতিরিক্ত প্লে-অফের ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি নকআউট পর্বে পৌঁছে গেল বার্সেলোনা।

বুধবার রাতে ক্যাম্প ন্যুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কোপেনহেগেনকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম স্থানে শেষ করেছে দলটি। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে তারা পেছনে ফেলেছে ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি ও স্পোর্টিং লিসবনকে। 

ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খায় বার্সা। চতুর্থ মিনিটেই ১৭ বছর বয়সী ভিক্টর দাদাসনের গোলে এগিয়ে যায় কোপেনহেগেন। মোহাম্মদ এলইউনুসির থ্রু-পাসে বার্সেলোনার হাই ডিফেন্স লাইন ভেঙে দাদাসন একাই ছুটে গিয়ে নিচু শটে বল পাঠান জালে, স্তব্ধ হয়ে যায় ক্যাম্প ন্যু। 

প্রথমার্ধে বার্সেলোনা বারবার আক্রমণ করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা পায়নি। রাফিনিয়া ও লেভানডোভস্কি সুযোগ নষ্ট করেন, আর ৩৩ মিনিটে এরিক গার্সিয়ার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে, হতাশায় ডুবে যায় স্বাগতিক সমর্থকরা।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই বদলে যায় পুরো চিত্রনাট্য। বিরতির পরপরই আক্রমণের গতি বাড়ায় বার্সেলোনা। ৪৮ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত দৌড় ও নিখুঁত পাসে ফাঁকা জালে বল ঠেলে সমতা ফেরান রবার্ট লেভানডোভস্কি। এরপর ৬০ মিনিটে নিজেই গোল করেন ইয়ামাল, ডিফ্লেক্টেড শটে কোপেনহেগেন গোলরক্ষক ডমিনিক কোটারস্কিকে অসহায় করে দিয়ে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন তিনি।

এরপর ম্যাচ পুরোপুরি বার্সেলোনার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ৬৯ মিনিটে লেভানডোভস্কি বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি থেকে রাফিনিয়া স্কোরলাইন ৩-১ করেন। শেষ ধাক্কাটা আসে ৮৫ মিনিটে, বদলি হিসেবে নামা মার্কাস রাশফোর্ড ফ্রি-কিক থেকে দারুণ গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন ৪-১ এ।

ম্যাচ শেষে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল বলেন, টপ এইটে থাকা ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং এই জয় সেটাই নিশ্চিত করেছে। তার ভাষায়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিছিয়ে পড়লে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন, কিন্তু দল মানসিকভাবে শক্ত ছিল বলেই ম্যাচটা নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিতে পেরেছে। অতিরিক্ত দুটি ম্যাচ না খেলেই শেষ ষোলোর টিকিট পাওয়া মৌসুমের এই ব্যস্ততায় বড় স্বস্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যদিও বড় জয় এবং টপ এইটের সাফল্য বার্সেলোনার জন্য বিশাল অর্জন, তবু কিছু প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে রক্ষণভাগ নিয়ে। পুরো লিগ পর্বে একটি ম্যাচেও ক্লিনশিট রাখতে পারেনি তারা এবং টপ ১৩ দলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল রক্ষণ নিয়ে শেষ করেছে বার্সা। তবুও বাস্তবতা একটাই, সব সমালোচনার ঊর্ধ্বে গিয়ে বার্সেলোনা এখন ইউরোপের সেরা আট দলের মধ্যে, সরাসরি শেষ ষোলোর মঞ্চে, যেখানে নতুন করে শুরু হবে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের স্বপ্নযাত্রা।