এলচেকে হারালেও স্বস্তির নয় বার্সার জয়
মার্তিনেস ভালেরোতে ম্যাচটা ছিল চোখের জন্য আনন্দ, কিন্তু বার্সা সমর্থকদের জন্য ছিল হৃদস্পন্দন পরীক্ষার মতো এক অভিজ্ঞতা। একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও যেভাবে বার্সেলোনা এলচেকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হলো, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। পরিসংখ্যানের ভাষায় বললে, বড় ব্যবধানে পাওয়া পরিষ্কার সুযোগগুলোর বেশিরভাগই গেল অপচয়ে। এমনকি জয়ের পথও একপর্যায়ে হয়ে উঠেছিল অনিশ্চিত।
শনিবার লা লিগার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত এলচের বিপক্ষে ৩-১ গোলের ব্যবধানে জিতেছে বার্সেলোনা। তাতে শীর্ষস্থান আরও দৃঢ় করেছে দলটি। ম্যাচের শুরুতেই দানি ওলমোর থ্রু বল থেকে লামিনে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফিনিশ বার্সাকে এগিয়ে দেয়। মনে হচ্ছিল, সহজ এক জয় অপেক্ষা করছে ফ্লিকের দলের জন্য। কিন্তু আত্মতুষ্টির সেই মুহূর্তই হয়ে ওঠে বিপদের কারণ। ধীরে ধীরে এলচে ম্যাচে ফেরে, আর আলভারো রদ্রিগেসের গোলে সমতা ফিরিয়ে আনে তারা।
এরপর শুরু হয় বার্সেলোনার সুযোগের ঝড়, কিন্তু ফিনিশিংয়ে ভয়ংকর ব্যর্থতা। একের পর এক শট পোস্টে লাগে, কখনো ক্রসবারে, কখনো গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন এলচের ডিফেন্ডাররা। ফেরান তোরেস, রাফিনিয়া, ফারমিন কেউই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিলেন না। এক পর্যায়ে একই আক্রমণে দু'বার পোস্টে বল লাগার দৃশ্য যেন পুরো ম্যাচের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
তবুও আক্রমণে বার্সা ছিল দুর্দান্ত। ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ংয়ের প্রত্যাবর্তনে মিডফিল্ডে আসে গতি ও সৃজনশীলতা। দানি ওলমো একের পর এক সুযোগ তৈরি করছিলেন। কিন্তু পুরো ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন লামিনে ইয়ামাল। তার গতি, ড্রিবল আর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এলচের রক্ষণভাগকে বারবার ছিন্নভিন্ন করেছে।
শেষ পর্যন্ত আবারও ম্যাচে প্রাণ ফেরান ফেরান তোরেস। ডি ইয়ংয়ের অসাধারণ এক রানে আর নিখুঁত পাস থেকে গোল করে বার্সাকে আবার এগিয়ে দেন তিনি। কিন্তু তাতেও ম্যাচ নিরাপদ হয়নি। এলচে পাল্টা আক্রমণে বারবার ভয় ধরাচ্ছিল, আর বার্সার ডিফেন্সে প্রতিটি ভুলই হয়ে উঠছিল সম্ভাব্য বিপর্যয়।
শেষ দৃশ্যে এসে নাটকের পরিসমাপ্তি। লেভানদোভস্কির বুদ্ধিদীপ্ত পাস, লামিনে ইয়ামালের কাট-ইন আর নিখুঁত ক্রস থেকে মার্কাস র্যাশফোর্ডের শক্তিশালী ফিনিশ, এই গোলই কার্যত ম্যাচের ইতি টানে। অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বার্সা শিবির।
তবে এই ম্যাচ এক জিনিস স্পষ্ট করে দিল, বার্সেলোনা সুযোগ তৈরি করতে পারছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, কিন্তু সেগুলোর সদ্ব্যবহারে ভয়ংকর ঘাটতি রয়ে গেছে। আধিপত্য, দখল, আক্রমণ সবই ছিল বার্সার, কিন্তু স্কোরলাইনে তার প্রতিফলন নেই। বড় ব্যবধানে জয়ের বদলে ম্যাচটা হয়ে উঠল টানটান উত্তেজনার এক লড়াই।