‘এটা পৃথিবীর শেষ নয়, নতুন শুরুর সময়’—ব্রাজিলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান কাফুর
বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পর শুরু হয়েছে আত্মসমালোচনা। কোচ, কৌশল, খেলোয়াড় সবকিছু নিয়েই চলছে নানা আলোচনা। তবে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের অধিনায়ক কাফু মনে করেন, সমাধান শুধু কৌশল বদলানো বা নতুন কাউকে দোষারোপ করার মধ্যে নেই। ব্রাজিলকে আবার শীর্ষে ফিরতে হলে ধৈর্য, নতুন প্রজন্মের ওপর আস্থা এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
শেষ ষোলোতে নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে জোড়া গোল করেন আর্লিং হালান্ড। এই হারে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়াল। অর্থাৎ বিশ্বকাপ শিরোপার খরা দাঁড়াবে ২৮ বছরে, যা দেশটির ইতিহাসে দীর্ঘতম।
১৯৯৪ সালে ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটানো ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন কাফু। তাই দীর্ঘ প্রতীক্ষার চাপ কতটা, তা খুব ভালো করেই জানেন তিনি। পরবর্তী প্রজন্মের ওপর চাপ আরও বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কাফু বলেন, 'অবশ্যই আরও বেশি। ১৯৯৪ সালে ২৪ বছর পর শিরোপা জেতার চাপ যদি এতটা হয়ে থাকে, তাহলে কল্পনা করুন, ২০৩০ সালে ২৮ বছর পর সেই চাপ কতটা হবে।'
সোমবার নিউইয়র্কের রকফেলার প্লাজায় ১৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি লেগো ব্লক দিয়ে তৈরি ৮ দশমিক ৪৭ মিটার দীর্ঘ বিশ্বকাপ ট্রফির একটি ভাস্কর্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাফু।
সেখানে তিনি বলেন, একটি ব্যর্থতার কারণে ব্রাজিলের ফুটবলকে খাটো করে দেখার কোনো কারণ নেই। 'ব্রাজিল তো ব্রাজিলই। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সম্ভাবনা ও মান কখনোই প্রশ্নের মুখে পড়ে না।'
তবে সেই কারণেই ধৈর্য ধরা আরও কঠিন হবে বলেও মনে করেন তিনি, 'এটা পৃথিবীর শেষ নয়। বরং এটি একটি নতুন চক্র এবং নতুন প্রজন্মের শুরু। তাই আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, কার্লো আনচেলত্তিই সেই মানুষ, যিনি আবার ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারবেন।'