সাহিবজাদার ঝড়ের পর স্পিনারদের দাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে পাকিস্তানের প্রতিশোধ
আগের ম্যাচে আক্রমণাত্মক ইনিংস উপহার দেওয়া সাহিবজাদা ফারহানের ব্যাট উত্তাল হলো আরও। তার ফিফটির পাশাপাশি বাবর আজম ও শাদাব খান করলেন কার্যকর ব্যাটিং। এতে পাওয়া বড় পুঁজি রক্ষায় জ্বলে উঠলেন স্পিনাররা। দাপট দেখিয়ে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার ওভারের রোমাঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের প্রতিশোধ নিল পাকিস্তান।
মঙ্গলবার কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে 'এ' গ্রুপের ম্যাচে ৩২ রানে জিতেছে সালমান আগার দল। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯০ রান তোলে তারা। জবাবে লড়াই করলেও লক্ষ্য থেকে বেশ দূরে থামতে হয় আমেরিকানদের। তারা পুরো ওভার খেলে করতে পারে ৮ উইকেটে ১৫৮ রান।
এবারের আসরে দুই ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের এটি দ্বিতীয় জয়। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের এটি দ্বিতীয় হার।
সাহিবজাদা ওপেনিংয়ে নেমে ২৭ বলে ফিফটি ছুঁয়ে শেষ পর্যন্ত করেন ৭৩ রান। ৪১ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে তার হাতে। বাবর চারটি চার ও একটি ছক্কায় খেলেন ৩২ বলে ৪৬ রানের ইনিংস। শেষদিকে শাদাব তাণ্ডব চালিয়ে করেন ১২ বলে ৩০ রান। তার ব্যাট থেকেও আসে চারটি চার ও একটি ছক্কা।
যুক্তরাষ্ট্রের পতন হওয়া ৮ উইকেটের সাতটিই নেন পাকিস্তানের চার স্পিনার মিলে। ২৭ রানে ৩ উইকেট শিকার করে তাদের সফলতম বোলার অফ স্পিনার উসমান তারিক। লেগ স্পিনার শাদাব ২৬ রানে পান ২ উইকেট। আরেক লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ ৩০ রানে নেন ১ উইকেট। সমান সংখ্যক উইকেট পেতে বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজের খরচা ২১ রান।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পাঁচে নামা শুভম রঞ্জনে দুর্দান্ত লড়াই চালান। আউট হওয়ার আগে ৩০ বলে ৫১ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেন তিনি। সেখানে ছিল তিনটি করে ছক্কা ও চারের মার। তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরান শততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা শাহিন শাহ আফ্রিদি। পাকিস্তানের একাদশে বিশেষজ্ঞ পেসার ছিলেন কেবল এই একজনই।
ওপেনার সায়ান জাহাঙ্গীরও হাত খুলে খেলেন। ৩৪ বলে ৪৯ রান করতে তিনি হাঁকান দুটি ছক্কা ও পাঁচটি চার। এছাড়া মিলিন্দ কুমার করেন ২২ বলে ২৯ রান। তবে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৫০ রান তোলা আমেরিকানরা পরে আর তাল মেলাতে পারেনি। প্রতিপক্ষের স্পিনাররা আক্রমণে আসার পর পাল্টে যায় চিত্র।
এর আগে ওপেনিং জুটিতে উড়ন্ত শুরু পায় পাকিস্তান। সাহিবজাদা ও সাইম আইয়ুব ৫ ওভারেই ৫৪ রান তোলেন। তবে ষষ্ঠ ওভারে শ্যাডলি ফন শ্যালকউইক জোড়া আঘাত হেনে সাইম ও অধিনায়ক সালমান— উভয়কেই সাজঘরে ফেরত পাঠান।
তৃতীয় উইকেটে সাহিবজাদা ও বাবরের ৫৩ বলে ৮১ রানের জুটিতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। মাঝের ওভারগুলোতে তারা চড়াও হয়ে খেলেন। শেষদিকে শাদাব দ্রুত বাউন্ডারি এনে দলের সংগ্রহ বড় করেন। যদিও শেষ দুই ওভারে মাত্র ১৩ রান তুলতে গিয়ে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বোলার ছিলেন পেসার ফন শ্যালকউইক। ২৫ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। গত শনিবার মুম্বাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ২৯ রানে হারের ম্যাচেও তিনি ৪ উইকেট নিয়েছিলেন ২৫ রানেই।