টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত: আসিফ নজরুল এবার বলছেন ভিন্ন কথা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। তিনি আগে একে সরকারের সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করলেও এখন দাবি করছেন, সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটাররা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়েছে।

অনেক টানাপোড়েনের পর বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার যে অনুরোধ বাংলাদেশ করেছিল তা খারিজ করে দেয় আইসিসি। টাইগারদের বাদ দিয়ে তারা শেষ মুহূর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে বাংলাদেশকে ছাড়াই প্রায় ২৮ বছর পর মাঠে গড়িয়েছে কোনো বিশ্বকাপ।

গত ২২ জানুয়ারি ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমকে ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা— এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কিনা, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে।’

তবে গতকাল মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে বলেন, ‘কোনো রিগ্রেট? প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের ক্রিকেট… আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে, দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, আমার মনে হয়, এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ক্রীড়া উপদেষ্টার দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের অমিল দেখা যাচ্ছে। কারণ, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর ভেন্যু সরানোর দাবি জানায় গত ৪ জানুয়ারি। এরপর ২২ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।

মাঝে ২০ জানুয়ারি বিপিএলের একটি ম্যাচের পর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস পরিষ্কার করেছিলেন যে, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোনো আলোচনাই করা হয়নি। তাদের মতামত চাওয়া হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি ছোট্ট করে জবাব দিয়েছিলেন, 'না।'