ঢাবিতে ২ নারীকে হেনস্তার অভিযোগে তদন্ত কমিটি

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের কাছে বুধবার ভোররাতে দুই শিক্ষার্থীর দ্বারা দুই নারী হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ওই নারীদের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি গতকাল তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর এই কমিটি গঠন করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্তদের একজন বাঁশের লাঠি হাতে এক নারীকে লাথি মারার চেষ্টা করছেন।

ভিডিওতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলতে শোনা যায় ওই নারীদের।

এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা সেফ না। ৫ আগস্টের পরও আমরা সেফ না। ভার্সিটির ছেলেরা আমাদের ধরে মারে। আমাদের ড্রেসে নাকি লেখা আছে প্রস্টিটিউট।’

তিনি আরও বলছিলেন, ‘নাজিরাবাজারে সেহরি খেয়ে আমরা টিএসসিতে এসেছিলাম। তারা আমার রাইডারকে চড় মেরেছে। আমাদের প্রস্টিটিউট বলেছে। তারা কীভাবে নারীর গায়ে হাত তোলে?’

একপর্যায়ে ভিডিওর বাইরে থেকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘কোনো প্রমাণ নেই।’ জবাবে ওই নারী বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ আছে।’

অপর এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সে আমাকে চড় মারল কেন? ঢাবির একজন শিক্ষার্থী আমাকে মারবে কেন? আমি কি এখানে আসতে পারব না? আমি কি বাংলাদেশের বাইরে থেকে এসেছি?’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের ও বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম তুষার এবং বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ও জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ সোহান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন শাহরিয়ার। দাবি করেন, নারীদের সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হলেও তিনি কোনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি।

তিনি বলেন, ‘সেহরি খেয়ে ফেরার পথে টিএসসিতে এক নারী ও এক পুরুষকে “অশালীন” অবস্থায় দেখি এবং কথা বলে বুঝতে পারি তারা নেশাগ্রস্ত ছিলেন।’ এ অবস্থায় তাদের পরিচয় জানতে চান বলেও জানান শাহরিয়ার।

তিনি আরও দাবি করেন, তারা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। ‘একপর্যায়ে ওই পুরুষের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়,’ বলেন তিনি।

‘ধস্তাধস্তির পর ওই নারী বার বার আমার দিকে তেড়ে আসছিলেন। আমি তাকে মারধর করিনি। হাত দিয়ে সরাতে গেলে তিনি দাবি করেন আমি তাকে চড় মেরেছি,’ যোগ করেন শাহরিয়ার।

তবে আরেক অভিযুক্ত রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অন্য গণমাধ্যমের কাছে তিনি বাঁশের লাঠি হাতে নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও কাউকে আঘাত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গতরাতে আমরা টিএসসিতে বসেছিলাম। তাদের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে কোথা থেকে এসেছে এবং এত রাতে বাইরে কেন জানতে চাই। তাদের দলে পাঁচজন ছিল এবং নেশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। আমরা ছিলাম দুজন, তাই তারা আমাদের সঙ্গে আগ্রাসী আচরণ করে। একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিম আসে। তখন আমি একটি বাঁশের লাঠি তুলে নিই, তবে কাউকে আঘাত করিনি। কয়েকবার ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।’

প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ‘ফুটেজ দেখে ঢাবির চার শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছি,’ বলেন তিনি।

তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ফুটেজে নারীদের লাঠি দিয়ে পেটানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে দেখা যায়, লাঠি দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে থাকা পুরুষটিকে হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। নারীদের আঘাত করা হয়েছে কিনা, তা আরও সতর্কভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের লাঠি তুলতে দেখেছি, কিন্তু সরাসরি নারীদের পেটানোর স্পষ্ট ফুটেজ এখনো দেখিনি।’

প্রক্টর আরও জানান, ভুক্তভোগী নারীরা নিজেরা কোনো অভিযোগ করেননি, তবে তাদের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তার ভাষ্য, অভিযোগকারী দুজনের একজন নিজেকে রাইডার এবং অন্যজন নারীদের শৈশবের বন্ধু বলে পরিচয় দিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়, সেহরির পর চা খাওয়ার জন্য তারা টিএসসিতে দাঁড়িয়ে থাকাকালে দুই-তিনজন যুবক বার বার জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা মৌখিকভাবে গালাগাল করেন এবং পরে হেলমেট দিয়ে হামলা চালান, পাশাপাশি দুই নারীকে আঘাত করেন।