‘মা মাটির নিচে ঘুমাচ্ছে, আমার কাছে আসবে’

By নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর

'মা অফিস থেকে আসবে। আমার মা মাটির নিচে ঘুমাচ্ছে, আমার কাছে আসবে। মায়ের কাপড় রেখে দিয়েছি ড্রয়ারে,' মাকে হারিয়ে সাড়ে চার বছরের নূর মাহিম এভাবেই মাকে খুঁজে ফিরছে।

মাহিমের মা প্রিয়া আক্তার গাজীপুরের শ্রীপুরে গতকাল ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও ৪ জন, আহত হয়েছেন ২০ জন।

আজ সোমবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামে প্রিয়ার বাড়িতে গিয়ে এই সংবাদদাতা দেখেন শোকাবহ অবস্থা। মায়ের খোঁজ করছে ছোট্ট শিশু। স্ত্রীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় প্রিয়ার স্বামী শুভ হাসান। শাশুড়ি শামসুন্নাহার ও শ্বশুর নুরুল ইসলাম কন্যাসম পুত্রবধুর কথা বলতে গিয়ে কাঁদছিলেন।

জানা যায়, রোববার পোশাক শ্রমিকদের বহন করা বাসটির যাত্রী ছিলেন প্রিয়া।  শ্রীপুরের টেপিরবাড়ী এলাকার জামান ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিক নিয়ে কারখানায় যাচ্ছিল বাসটি।

শুভ হাসান বলেন, আট বছর আগে প্রিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরিবারের সবার সঙ্গে তার ছিল খুবই ভালো সম্পর্ক।

শুভ বলেন, আমার তখন চাকরি ছিল না। ছেলেটার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রিয়া চাকরিটা নিয়েছিল। ছেলেটার ভবিষ্যতের আগেই সে চলে গেল। সংসারটা চালাতো তো সেই ই।

কুমিল্লায় চাকরি করেন শুভ। জানালেন, তিন মাস আগে স্ত্রী প্রিয়ার সাথে সামান্য অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। শনিবার রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে প্রিয়ার সাথে তার শেষ কথা হয়। 'মান-অভিমানের নানা কথার ফাঁকে যে কথাটি বলে প্রিয়া ফোন রেখে দিয়েছিল তা এখন আমাকে কষ্ট দেয়। বলেছিল "তুমি যেদিন আসবা সেদিন আমাকে খুঁজে পাবে না।" সত্যিই আমি কুমিল্লা থেকে এসে তাকে আর পাইনি। তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে আমাকে আমার কর্মস্থল কুমিল্লা থেকে আসতে হয়েছে। সেই কথাটি এখন আমার জীবনে স্মৃতি হয়ে গেছে। আমাদের দুজনের মধ্যে অনেক মিল ছিল। দাম্পত্য জীবনে আমাদের সাড়ে চার বছরের একটি ছেলে। ছেলেটি এখন মা হারা।'

প্রিয়ার শাশুড়ি শামসুন্নাহার বলেন, আমাদের সবাইকে খুব ভালোবাসতো প্রিয়া। যেদিন ভোরে মারা যায় তার আগের রাতেও বাচ্চাটাকে নিয়ে কথা বলল। সকালে কারখানায় যাওয়ার সময় ঘুমিয়েছিলাম। দেখা হলো না। পরে তার মৃত্যুর খবর পেলাম।

শ্বশুর বাড়ির মসজিদের পাশেই প্রিয়ার কবর দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে বালিয়াপাড়ার ওই মসজিদের সামনেই তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এমন একটি দুর্ঘটনায় এলাকার একজন মানুষের মৃত্যুর খবর শুনে শত শত মানুষ বাড়িতে ভিড় করেন।