চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম, পেট্রল পাম্পে গাড়ির চাপ
দৈনিক সরবরাহের তুলনায় গ্রাহকের চাহিদা বেশি থাকায় সারা দেশের পেট্রল পাম্পগুলোতে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন পাম্পমালিকদের একটি অংশ।
পাম্পমালিকদের মতে, এখন যে মাত্রায় তেল সরবরাহ করা হচ্ছে তা লাখ লাখ মোটরসাইকেল ও অন্যান্য গ্রাহকের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এর ফলে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি অংশের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাহকদের সামলাতে গিয়ে পাম্পের কর্মীদেরকে বাগ্বিতণ্ডার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।’
সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুলের নেতৃত্বাধীন অ্যাসোসিয়েশনের ওই অংশটি এক ফেসবুক পোস্টে বলেছে, পাম্পমালিকের যত সদিচ্ছাই থাকুক না কেন, গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
যোগাযোগ করা হলে সৈয়দ সাজ্জাদুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, পেট্রল পাম্পগুলোর সরবরাহের একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে, যা অতিক্রম করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চাইলেই একবারে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি দিতে পারি না। কিন্তু অনেক গ্রাহক এই কথা বুঝতে চান না।’
তার ভাষ্য, এ কারণেই তারা ফেসবুক পেজে সমস্যাটির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, মানুষ যেন আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনে (প্যানিক বায়িং), সেটাই তারা চান।
তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মানুষের আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখে মানুষের মধ্যে সংকট তৈরি হওয়ার ধারণা তৈরি হয়েছে। তেল শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে আরও বেশি মানুষ পাম্পে ছুটে আসছেন।’
সাজ্জাদুল করিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় প্রভাব পড়ছে। সরকার, কোম্পানিগুলো এবং আমরা—সবাই চেষ্টা করছি। কিন্তু সরবরাহের তো একটি নির্দিষ্ট সীমা আছে।’
তার দাবি, সাম্প্রতিক ঈদের ছুটিতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এসময় জ্বালানির ডিপো ও ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকায় পাম্পমালিকদের জন্য তেল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পাশাপাশি সারা দেশের পেট্রলপাম্পগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করারও দাবি জানান তিনি।