১০০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন যারা

স্টার অনলাইন ডেস্ক

শীর্ষ নেতাদের অনেকে নির্বাচনের সময় প্রথমে আশা করেন যে, তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না। এরপর আশা করেন, তিনি সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত হবেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটনা এমনটি না হলেও, একটি জাতীয় নির্বাচনে ১০০ শতাংশ ভোট এক প্রার্থীর পক্ষে পড়ার দাবি আছে।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে, একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে শতভাগ ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়ার তালিকায় অন্তত দুই রাজনীতিকের নাম পাওয়া যায়। তাদের একজন ইরাকের সাবেক রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেন ও অপরজন উত্তর কোরিয়ার বর্তমান নেতা কিম জং উন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়—২০১৪ সালে উত্তর কোরিয়ার আইনসভা নির্বাচনে কিম জং উন তার নির্বাচনী আসন থেকে শতভাগ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। 

দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে সংবাদটি প্রকাশ করে অন্যান্য সংবাদমাধ্যম। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার আইনসভা ‘সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি’র নির্বাচনে প্রার্থী কিম জং উনকে তার আসনের ভোটাররা সর্বসম্মতভাবে সমর্থন দিয়েছেন।

কিম জং উনের আগে তার বাবা কিম জং-ইল জাতীয় নির্বাচনে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবি করেছিলেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়—পশ্চিমের দেশগুলোয় বিদ্যমান গণতান্ত্রিক চর্চাকে বিবেচনায় নিলে উত্তর কোরিয়ার আইনসভার নির্বাচন অনেকটা ‘আলঙ্কারিক’। প্রতি ৫ বছর পরপর পিয়ংইয়ং এই নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০২ সালে ইরাকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেন এক গণভোটে শতভাগ ভোট পাওয়ার দাবি করেন। সেই গণভোটে বলা হয়েছিল যে, সাদ্দাম হোসেন তার ২ দশকের ক্ষমতা ধরে রাখবেন।
১৯৭৯ সালে উপরাষ্ট্রপতি সাদ্দাম তার সমাজতান্ত্রিক দল বাথ পার্টির সমর্থন নিয়ে ইরাকের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় বসেন।

বাগদাদ গোপনে গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে—এমন অভিযোগে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমের দেশগুলো ইরাকে হামলা চালালে সাদ্দাম হোসেনের পতন হয়।

এরপর, ২০০৬ সালে সাদ্দামকে মানবতাবিরোধী অপরাধের শাস্তি হিসেবে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, ২০০৮ সালে কিউবার সাধারণ নির্বাচনে সমাজতান্ত্রিক নেতা রাউল কাস্ত্রো ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবি করেছিলেন।

এরপর ২০০৭ সালে সিরিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদ তার ক্ষমতায় থাকা সংক্রান্ত এক গণভোটে ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পাওয়ার দাবি করেছিলেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়—তবে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে ইতিবাচক নজির গড়ার ইতিহাস আছে। যেমন, ২০১২ সালে মিশরে হোসনি মোবারক-পরবর্তী নির্বাচন।

‘আরব বসন্ত’ হিসেবে পরিচিত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোয় স্বৈরশাসনবিরোধী গণআন্দোলনের ঢেউ মিশরে এসে পড়লে সেখানকার প্রায় ৩০ বছরের শাসক হোসনি মোবারকের পতন হয়। 

এরপর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে মুসলিম ব্রাদারহুড প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পায়।

এর আগে, ১৯৯২ সালে সদ্য স্বাধীনতা পাওয়া মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সাপারমুরাত নিয়াজভ ও ২০১১ সালে রুশ ফেডারেশনের চেচেনিয়া প্রজাতন্ত্রে ইউনাইটেড রাশান পার্টির পক্ষে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়ার দাবি করা হয়।

২০০৪ সালে ককেশীয় অঞ্চলের দেশ জর্জিয়ার তৃতীয় রাষ্ট্রপতি মিখেইল সাকাশভিলি নির্বাচনে ৯৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এর আগের বছর দেশটিতে রক্তপাতহীন ‘গোলাপি বিপ্লবের’ মাধ্যমে সাকাশভিলির পূর্বসূরির পতন হয়েছিল।

এ ছাড়াও, ২০০২ সালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জ্যাক শিরাক ৮২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। উগ্র-জাতীয়তাবাদী দল ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা জাঁ-মারি লো পাঁ-র বিরুদ্ধে ভোটাররা শিরাককে বিজয়ী করেন।

বিবিসির এই প্রতিবেদন থেকে এটা বোঝা যায় যে—একনায়করা অর্থ-ক্ষমতার মিথ্যা দম্ভ দেখিয়ে ভোটের বাক্স যেমন ভরতে পারেন, তেমনি একজন জনপ্রিয় নেতাও পারেন সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোট নিজের পক্ষে টানতে।