৩১ মার্চের মধ্যে নকশাল আন্দোলন চিরতরে বন্ধের অঙ্গীকার দিল্লির
ভারতে দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী গেরিলাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। নয়াদিল্লির দাবি, এই অভিযান প্রায় ‘শেষ পর্যায়ে’।
সম্প্রতি এক জ্যেষ্ঠ মাওবাদী গেরিলা কমান্ডার আত্মসমর্পণ করেছেন। ওই ঘটনাকে ঘিরেই ভারত সরকার আগাম বিজয়বার্তা প্রচার করছে।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
১৯৬৭ সালে হিমালয়ের পাদদেশে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি গ্রামে চীনের কমিউনিস্ট নেতা মাও সে তুং-এর মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে একদল বিপ্লবী সমাজ পরিবর্তনের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন।
ওই আন্দোলনকে ‘দেশদ্রোহিতার’ তকমা দিয়ে এর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান শুরু করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
এরপর বেশ কয়েকবার ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও ‘নকশালপন্থিদের’ প্রতি মনোভাব বদলায়নি নয়াদিল্লির।
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে নকশালপন্থিদের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক’ অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। আগামী মার্চের মধ্যেই এই আন্দোলনকে সমূলে উৎপাটন করার উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছে সেনারা।
দীর্ঘদিন ধরে মধ্য-ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে মাওবাদীদের সশস্ত্র কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে এসেছেন থিপ্পিরি তিরুপতি। তিনি দেবুজী বা দেবজী নামেই বেশি পরিচিত।

ছত্তিশগড়ের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা গতকাল রোববার দিনের শেষভাগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘(মাওবাদবিরোধী অভিযানের) চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয়েছে।’
‘(দেবজীর গ্রেপ্তার) সশস্ত্র নকশালবাদীদের পুরোপুরি নির্মূল করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ,’ যোগ করেন তিনি।
এক পর্যায়ে ভারতের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে নকশাল আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। এক সময় ১৫ থেকে ২০ হাজার যোদ্ধা এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায়।
তবে বিপ্লবীদের সেই সুদিন আর নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আন্দোলনের তেজ নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। যোদ্ধা ও কমান্ডাররা বেশিরভাগ সময়ই লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
২০২৪ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি মাওবাদী যোদ্ধা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারও আছেন বলে সরকার জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে এই আন্দোলনের জেরে গত ছয় দশকে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
মাওবাদীদের দাবি, তারা ভারতের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছেন। মূলত বর্ণভিত্তিক এলাকাগুলোয় অন্যান্য রাজ্য থেকে ব্যবসায়ীরা খনিজ আহরণ করতে এসে স্থানীয়দের বঞ্চিত করছেন—এমন অভিযোগও করেন তারা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বিদ্রোহীদের নির্মূলের অঙ্গীকার করে আসছেন।
গত শনিবার তিনি জানান, ভারত পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩১ মার্চের মধ্যে মাওবাদের অবসান ঘটাবে।

এক বক্তব্যে অমিত শাহ বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি শেষের পথে। আগেও বলেছি এবং আবারও বলছি: ৩১ মার্চের মধ্যে আমরা এই দেশকে মাওবাদ সংক্রান্ত সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্ত করব। মাওবাদ নির্মূল হবে।’
‘আমি কল্পনা করতে পারছি না, এ ধরনের ঐতিহাসিক, সুবিশাল, ভয়াবহ ও কষ্টসাধ্য কাজকে কীভাবে মাত্র তিন বছরের মধ্যে আমরা সাফল্যের সঙ্গে শেষ করে এনেছি,’ যোগ করেন তিনি।


