ইরানি জাহাজে মার্কিন টর্পেডোর হামলা, সাগরের তলদেশ নিয়ন্ত্রণের নতুন ইঙ্গিত?

স্টার অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যে ভারত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলার ঘটনায় সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানের ‘আইআরআইএস ডেনা’ যুদ্ধজাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অন্তত ৮৬ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ১৯৪৫ সালের পর মার্কিন নৌবাহিনী কোনো জাহাজ লক্ষ্য করে টর্পেডো ছোড়েনি।

এ হামলার পর সাবমেরিন থেকে জাহাজটিতে টর্পেডো ছোড়ার পেরিস্কোপ ফুটেজ ও ইরানি জাহাজের তলিয়ে যাওয়ার একটি ছবি প্রকাশ করে ওয়াশিংটন।

কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক অ্যালেসিও পাটালানো বলেন, 'ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ২০ মিনিটের কম সময়ে ডুবে গেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রতলের যুদ্ধ কৌশল আরও আধুনিক হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'সাবমেরিন যুদ্ধ কখনো বন্ধ হয়নি। ১৯৮০ সালের পর থেকে নৌবাহিনীগুলোর মধ্যে বড় কোনো সংঘাত না হওয়ায় এটি শুধু আড়ালে ছিল।'

সর্বশেষ টর্পেডো হামলার ঘটনা ছিল ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময়। ব্রিটিশ সাবমেরিন ‘এইচএমএস কনকুয়েরর’ আর্জেন্টিনার ক্রুজার ‘বেলগ্রানো’ ডুবিয়ে দিয়েছিল।

এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘চিওনান’ করভেট যুদ্ধজাহাজ টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যায়। এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হলেও তারা অস্বীকার করেছিল।

ইউরোপের একজন সাবমেরিন বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাখ্যা করে বলেন, টর্পেডো জাহাজের গায়ে আঘাত করে না। বরং জাহাজের ঠিক নিচে বিস্ফোরণ ঘটায়।

তিনি বলেন, 'জাহাজের কয়েক মিটার নিচে বিস্ফোরিত হয়ে বিশাল বুদবুদ তৈরি করে টর্পেডো। এতে জাহাজটিকে একবার উপরে তুলে নিচে ফেলে দেয় এবং এতে জাহাজের মূল কাঠামো দুই খণ্ড হয়ে যায়।'

তার মতে, ইরানের আইআরআইএস ডেনা জাহাজটির ডুবন্ত বস্তু শনাক্তের রেঞ্জ এতটাই সীমিত ছিল যে এটি আসন্ন হামলা বুঝতে সক্ষম হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবমেরিনের অতর্কিত ও অদৃশ্য চলাচল এবং অনেক দূর থেকে টর্পেডো ছোড়ার ক্ষমতা একে 'যুদ্ধের চূড়ান্ত অস্ত্রে' পরিণত করেছে।

যখন সমমানের দুই নৌবাহিনীর রাডার ও মিসাইলের পাল্লা সমান থাকে, তখন সাবমেরিনের এই সক্ষমতা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ইউরোপীয় সামরিক বাহিনীর আরেকটি সূত্র জানায়, যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল থেকে অনেক দূরে টর্পেডো হামলা মূলত চীন ও রাশিয়ার মতো বৃহৎ শত্রুশক্তির উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের 'শক্তি প্রদর্শনের' একটি নমুনা।

'আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজে হামলার অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র আকাশ, সমুদ্র ও এমনকি সমুদ্রতলে আধিপত্য বিস্তার করছে। তারা সবখানেই আছে, শত্রু খুঁজে বের করতে ও ধ্বংস করতে সক্ষম,' বলছে ওই সূত্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে বিপর্যস্ত হওয়ার পরও নৌবহর আধুনিকীকরণে অবহেলা করলেও, সাবমেরিন উন্নত করতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।

চীনও দীর্ঘ বছর ধরে নৌবাহিনী ও সাবমেরিন বহর উন্নত করছে।

মার্কিন সাবমেরিন ফোর্সের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল রিচার্ড সাইফ চলতি সপ্তাহে মার্কিন সংসদীয় কমিটিকে বলেছেন, চীনের 'দুর্ধর্ষ' ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাবমেরিনগুলো মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘদিনের সমুদ্রতলের আধিপত্যের জন্য চ্যালেঞ্জ।