যুদ্ধের তীব্রতা কমলে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা দেবে ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ
ইরান যুদ্ধের তীব্রতা কমলে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে ফ্রান্স ও তার মিত্ররা প্রতিরক্ষামূলক মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার সাইপ্রাসে দেওয়া বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘শুধু নিরাপত্তা দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার মিশন’ পরিচালনায় ইউরোপ ও এর বাইরের দেশগুলোকে একসঙ্গে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, লক্ষ্য হলো ‘সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালির চলাচল স্বাভাবিক করা।’
ম্যাক্রোঁ জানান, পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে আটটি যুদ্ধজাহাজ, দুটি হেলিকপ্টারবাহী জাহাজ এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গল’ মোতায়েন করা হবে।
আল জাজিরা জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে।
ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়েছে, তার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া খুবই অসম্ভব।’
এদিকে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ও গ্রিসসহ কয়েকটি দেশ সাইপ্রাসে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে ফ্রান্স। গ্রিসের পাফোস বিমানঘাঁটিতে চারটি এফ–১৬ যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে এবং দুটি ফ্রিগেট সাইপ্রাস উপকূলে টহল দিচ্ছে বলে জানায় আল জাজিরা।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে গত মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।