‘হীরক রাজা’র খপ্পরে দুনিয়া?
রিপাবলিকান পার্টির বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ঢোকার ঠিক ৫ মাস পর অর্থাৎ গত বছরের ১৪ জুন অন্তত ৫০ লাখ মার্কিনি রাস্তায় নেমেছিলেন তাদের নতুন রাষ্ট্রপতির নেওয়া জনবিরোধী-নীতির প্রতিবাদ জানাতে। কাকতলীয়ভাবে সেদিন ছিল ট্রাম্পের জন্মদিন।
এর প্রায় ৪ মাস পর তথা গত ১৮ অক্টোবর অন্তত ৭০ লাখ মার্কিনি রাস্তায় নেমেছিলেন একই ক্ষোভ নিয়ে। আবারও স্লোগান দিয়েছিলেন তাদের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে। সবাই মিলে আওয়াজ তুলেছিলেন—'রাজা চাই না', 'রাজতন্ত্র নয়, গণতন্ত্র চাই' ইত্যাদি দাবির। জানিয়েছিলেন সংবিধান মেনে দেশ চালানোর দাবিও।
সেই দিনের প্রতিবাদ মার্কিন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে 'নো কিংস প্রোটেস্ট' হিসেবে। তবে লাখো মানুষের সেসব বিক্ষোভে হোয়াইট হাউসের রং তো বদলায়নি বরং চোখ রাঙানি বেড়েছে।
আজ ২০ জানুয়ারি ট্রাম্পের অভিষেকের বর্ষপূর্তির দিনে 'মুক্ত আমেরিকার' দাবিতে সর্বস্তরের মানুষকে রাস্তায় নেমে আসার ডাক দিয়েছে ট্রাম্পের দমননীতিবিরোধী মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
গত ১৭ জানুয়ারি ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় বসার বর্ষপূর্তির দিনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সব মানুষকে তাদের অফিস, স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির তৃণমূল সংগঠনগুলো।
বিক্ষোভকারীদের 'একটি মুক্ত আমেরিকা'র আওয়াজ তোলার অনুরোধও জানিয়েছে তারা।
পৃথিবীকে গলফের বল ভেবে খেলছেন ট্রাম্প?
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনক্ষোভ শুধু নিজ দেশেই নয়, তা এখন আন্তঃমহাদেশীয় রূপ নিয়েছে। এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াতেও চলমান মার্কিননীতির বিরুদ্ধে সরব মানুষ।
গত ৯ জানুয়ারি বিবিসির এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—বিশ্ব-ব্যবস্থা বদলে দিচ্ছে ট্রাম্পের মহাপরিকল্পনা। ইউরোপকে ফেলে দিলো কঠিন বাস্তবতায়।
গত ৮০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ একই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মূল্যবোধ ধারণ করে আসছে। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন উত্তর আটলান্টিকের দুইপারের দেশগুলোয় অগ্রাধিকার পেয়েছে।
এতে আরও বলা হয়—১৯৪৭ সালে ১৮ মিনিটের ভাষণে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি হ্যারি ট্রুম্যান সেই সময়ের সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসন থেকে ইউরোপকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক জোট ন্যাটোর জন্ম হয়। এসব সংস্থা গঠন করা হয় 'আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আইনের শাসন' প্রতিষ্ঠিত করতে। বলা হয়—বিশ্বব্যাপী আইনের শাসন রক্ষার দায় সব দেশের।
এ ছাড়াও, শত্রুভাবাপন্ন দেশে স্বৈরশাসনের বিপরীতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার কথাও বলছে এই সংস্থাগুলো।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দেশের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল (এনএসএস) ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়—এক সঙ্গে কাজ করার দিন শেষ। অর্থাৎ, বিশ্বশান্তি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের যে ভূমিকার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছিল সেই ভাবনার অবসান হয়েছে।
এই অবসানের শুরুটা হয়ত একটু আগেই শুরু হয়েছিল। সেই বছরের ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স তার ভাষণে ইউরোপীয় মিত্রদের সতর্ক করেছিলেন। ফরাসি গণমাধ্যম ল্যো মোঁদ বলছে—মার্কিন নেতা তার বক্তব্যে ইউরোপের বিরুদ্ধে 'আদর্শগত যুদ্ধ' ঘোষণা করেছেন।
গত ১৪ জানুয়ারি বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করে—ট্রাম্পের ক্ষমতার অযাচিত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী আইনের শাসনকে উল্টিয়ে দিয়েছে, শত্রু-মিত্র সবাই বিপর্যস্ত।
গত ১৬ জানুয়ারি দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়—ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা রাখতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া। প্রতিবেদন অনুসারে—প্রশান্ত মহাসাগরে ওয়াশিংটন এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। কিন্তু, বিশ্লেষকদের ভাষ্য—ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়লেও বিশ্ব-ব্যবস্থা আগের অবস্থায় আর ফিরতে পারবে না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় ৭০ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়া নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে। তবে এই নির্ভরতা নির্ভর করে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ইচ্ছার ওপর।
গত বছর জুনে সিডনিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোয়ি ইনস্টিটিউটের এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার ৭২ শতাংশ মানুষ মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না। বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে তাদের বিশ্বাস ধসে গেছে।
অস্ট্রেলিয়া প্রয়োজনের সময় মার্কিন সহায়তা পাবে কিনা তা নিয়েও তারা সন্দিহান।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার আগেও অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র ছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম মেয়াদের তুলনায় দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প মিত্র অস্ট্রেলিয়ার ওপর বেশি খড়গহস্ত।
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত বছর জুনে ইরানের ওপর হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের শত্রু হিসেবে বিবেচিত এই দেশটির বিরুদ্ধে গোপনে পরমাণু বোমা তৈরির অভিযোগ করে আসছে ওয়াশিংটন।
গত ৩ জানুয়ারি দক্ষিণ আমেরিকায় অপর শত্রু ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয় মার্কিন সেনারা। সেসময় মার্কিন হামলায় রাজধানী কারাকাসে দায়িত্বরত প্রতিবেশী কিউবার ৩২ সেনা নিহত হয়।
গত ১৭ জানুয়ারি এ বিষয়ে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাভানায় মার্কিন দূতাবাসের বাইরে ১০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেছে।
কিউবার সরকার আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়া ৬৪ বছর বয়সী রেনে গনজালেজ গণমাধ্যমকে বলেন, 'এমন এক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র শাসন করছেন যিনি নিজেকে সম্রাট মনে করেন।'
১৯৫৯ সালে ফিদেল ক্যাস্ট্রোর নেতৃত্বে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ কিউবায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর থেকে হাভানাকে 'শত্রু' হিসেবে দেখে আসছে প্রতিবেশী ওয়াশিংটন।
গত ১৮ জানুয়ারি ডেনমার্কে হাজারো মানুষ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। সিএনএন জানিয়েছে—বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, 'আমরা মার্কিনি হতে চাই না'। তারা ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির প্রতিবাদ করেন।
বিরোধীদের প্রতিবাদে কান না দিয়ে ট্রাম্প উল্টো তার গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা ইউরোপীয় মিত্রদের সব পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
একইদিনে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টের বরাত দিয়ে জানানো হয়—আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বসবে। আগামী ১ জুন থেকে সেই শুল্কের পরিমাণ বেড়ে হবে ২৫ শতাংশ।
পরিস্থিতি দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে—'দ্য গ্রেট ডিকটেটর' চলচ্চিত্রে চার্লি চ্যাপলিন যেভাবে পৃথিবী নামক গোলকটিকে নিয়ে খেলেছিলেন, তেমনিভাবে গলফ-প্রিয় ট্রাম্প কি এই গ্রহটিকে গলফের বল ভেবে খেলছেন?
ডোনরো ডকট্রিন কী? ট্রাম্পের নয়া অশান্তি বার্তা?
১৮২৩ সাল। সে বছর ২ ডিসেম্বর তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জেমস মনরো দেশটির আইনসভা কংগ্রেসে তার বার্ষিক বক্তৃতায় নিজ দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেছিলেন। তার সেসব দিকনির্দেশনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নাম দিয়েছেন 'মনরো ডকট্রিন' বা মনরোর মতবাদ।
সেই মতবাদে বলা হয়—পৃথিবী এক নতুন বাস্তবতায় পড়েছে। সেই বাস্তবতায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বাঁধলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে না। পশ্চিম গোলার্ধ হিসেবে পরিচিত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে বিদ্যমান উপনিবেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র নাক গলাবে না।
এ ছাড়াও, ভবিষ্যতে কোনো দেশ পশ্চিম গোলার্ধে উপনিবেশ স্থাপন করতে পারবে না। সেখানে কোনো ইউরোপীয় শক্তি উপনিবেশ করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র এর বিরোধিতা করবে।
অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে—এই মতবাদের মূল কথা হচ্ছে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অর্থাৎ, পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করা।
এরপর ২০০ বছরের বেশি সময় কেটে গেছে। বিশ্ব-পরিস্থিতি বদলে গেছে অনেকটাই। এমন বাস্তবতায় ওয়াশিংটন কী নতুন কিছু ভাবছে?
গত বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প যেন নিজের 'ইচ্ছামত' বা 'যা খুশি তাই' করে যাচ্ছেন। তার এসব কর্মকাণ্ড শুধু নিজ দেশে সীমাবদ্ধ নয়, তা পুরো পৃথিবীকে প্রভাবিত করছে।
ট্রাম্পের এমন আচরণকে বিশ্লেষকদের অনেকে 'ডোনরো ডকট্রিন' বলে আখ্যা দিচ্ছেন। অর্থাৎ, 'জোর যার মুলুক তার'-নীতি আসছে বিশ্বমঞ্চে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেই পুরোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ; প্রাচীন যুগে ভারতীয় উপমহাদেশের সেই 'মাৎসন্যায়' নীতি—ছোট মাছকে গিলে খাবে বড় মাছ।
অথবা, মধ্যযুগীয় ইউরোপের সেই মেকিয়াভেলি-নীতি—বড় দেশ দখল করবে ছোট দেশ!
গত বছর ১৭ নভেম্বর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, 'ডোনরো ডকট্রিন' হচ্ছে পশ্চিম গোলার্ধ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের চেষ্টা।
এতে আরও বলা হয়—ট্রাম্প চাচ্ছেন উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এর মাধ্যমে তিনি মিত্রদের পুরস্কৃত ও শত্রুদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে চান। এর মাধ্যমে তিনি যেন সেই অঞ্চলে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা পালটে দিতে চাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পভক্তরা তাদের নেতার বিশ্বমঞ্চে এমন আচরণকে 'ডোনরো ডকট্রিন' বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতবাদ বা নতুন বিশ্ব-ব্যবস্থা হিসেবে প্রচার করছেন।
গত সপ্তাহে লন্ডনভিত্তিক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, 'ডোনরো ডকট্রিন' আর্টিক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
আরও বলা হয়—ক্ষমতার জোরে ট্রাম্প উত্তর মেরুর আর্টিক অঞ্চলে ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলের যে হুমকি দিয়েছেন তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন আচরণের বিরোধিতা করে খোদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নাগরিকরা বিক্ষোভ করছেন।
অনেক বিশ্লেষকের ভাষ্য—ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধুনা প্রচারিত 'ডোনরো ডকট্রিন' ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে নতুন অশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিতে শুরু করেছে।
'হীরক রাজা'র খপ্পর?
গত ১৭ জানুয়ারি নিউজ উইক সাময়িকী এক জাতীয় জনজরিপের বরাত দিয়ে জানায়, দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন তলানিতে এসে ঠেকেছে। এতে বলা হয়, ইকোনমিস্ট/ইউগভ জরিপের তথ্য অনুসারে, ৫৪ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের কার্যকলাপে নাখোশ।
তবে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি নিউজ উইককে বলেন, ট্রাম্প 'শান্তিদূত হিসেবে তার অবদান নিশ্চিত করেছেন। তিনি ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছেন। লাখো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।'
গতকাল বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে—মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্র ও নোবেল শান্তি পুরষ্কার দেওয়া দেশ নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস স্টোরকে বলেছেন, 'আমি ৮টির বেশি যুদ্ধ থামালেও আপনার দেশ আমাকে নোবেল শান্তি পুরষ্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই এখন আর শান্তির প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে ভাবছি না।'
ট্রাম্পের যুদ্ধ থামানোর মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে শান্তি আনার পাশাপাশি দুনিয়াজুড়ে তিনি যে অশান্তি সৃষ্টি করে চলছেন তাতে প্রশ্ন জাগে—বিশ্ববাসী কি গল্পের সেই 'হীরক রাজা'র খপ্পরে পড়েছে?





