খামেনির দুর্বল নেতৃত্বে নিকৃষ্টতম দেশে পরিণত ইরান: ট্রাম্প

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে আসার পর সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, খামেনির দুর্বল নেতৃত্বই ইরানের জনগণের দুর্ভোগ-দুর্দশার মূল কারণ।

আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।

মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, 'ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।'

দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্পের বক্তব্যে নিয়মিতই উঠে এসেছে ইরান প্রসঙ্গ। তবে এবারই প্রথম খামেনিকে নিয়ে এমন মন্তব্য করলেন রিপাবলিকান নেতা।

তবে পলিটিকোর সাক্ষাৎকারে তিনি সরকার উৎখাত নিয়ে কথা বলেননি বা এ ধরনের কোনো আহবানও জানাননি। বরং নেতা হিসেবে খামেনির অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

এর আগে, গত শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানে হামলা করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন তিনি। যুক্তি দেন, তেহরান ৮০০ বিক্ষোভকারীকে ফাঁসি দেওয়ার উদ্যোগ থেকে সরে আসার কারণেই তিনি তার অবস্থান বদলেছেন।

Trump
তেহরানের এক সভায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। ছবি: রয়টার্স

কয়েকদিন আগেই 'বিক্ষোভকারীদের হত্যা' করা হলে ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের জন্য 'সাহায্য আসছে'।

শনিবার রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া ভাষণে খামেনি স্বীকার করে, বিক্ষোভে 'হাজারো' মানুষ নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে, ইরানে সামরিক অভিযানের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পলিটিকোকে ট্রাম্প বলেন, 'খামেনির জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত ছিল দুই দিন আগে ৮০০ মানুষকে ফাঁসি না দেওয়া।'

ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারে অল্প সময় আগে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি এক্সে বেশ কয়েকটি পোস্ট দিয়ে ইরানে বিক্ষোভের জন্য মার্কিন নেতাকে দায়ী করেন।

খামেনি বলেন, 'আমাদের চোখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একজন অপরাধী। ইরানের আহত-নিহত মানুষ, ক্ষয়ক্ষতি ও অপমানের জন্য তিনিই দায়ী।'

Trump
হোয়াইট হাউসে গণমাধ্যমের সামনে ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

ইরান কর্তৃপক্ষ দেশটির সাধারণ মানুষের সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভকে বরাবরই 'রায়ট' ও 'সন্ত্রাসী কার্যক্রম' আখ্যা দিয়েছে এবং এগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে এসেছে।

খামেনির পোস্টের জবাবে ট্রাম্প পলিটিকোকে বলেন, 'তার (খামেনির) অপরাধ হলো, নজিরবিহীন সহিংসতার আশ্রয় নেওয়া এবং নেতা হয়েও নিজ দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া।'

'(এবং তা তিনি করেছেন) শুধু দেশটিকে কার্যকর রাখতে—যদিও (ইরানের) কার্যকারিতা খুবই নিম্ন পর্যায়ে—নেতৃবৃন্দের উচিৎ সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনার দিকে নজর দেওয়া। আমি যেমনটা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে করি। নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হাজারো মানুষ হত্যা করে নয়', যোগ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, 'নেতৃত্ব মানেই সম্মান। ভয়ভীতি ও মৃত্যু নয়।'

খামেনির সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, 'সে একজন (মানসিকভাবে) অসুস্থ মানুষ। তার উচিৎ মানুষকে হত্যা না করে সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনা করা। (খামেনির) দুর্বল নেতৃত্বের কারণে, জীবনযাপনের জন্য সবচেয়ে নিকৃষ্ট দেশে পরিণত হয়েছে তার দেশটি।'

সরকার ২৮ ডিসেম্বর থেকে চলমান বিক্ষোভকে 'দমন' করার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে ইরান।

ইন্টারনেট বন্ধ রেখে পরিচালিত 'দমন-পীড়ন' অভিযানে অন্তত তিন হাজার ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি।