ইরান: পারস্য সাম্রাজ্যের গর্বিত উত্তরাধিকার

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রত্যাশিত হামলার কয়েকদিন পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এক ভাষণে নিজ দেশের 'প্রাচীন সভ্যতার' প্রশংসা করেছিলেন। তিনি সদর্পে জানিয়েছিলেন, তার দেশের 'সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার' ইতিহাস অধুনা-সৃষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সুপ্রাচীন।

২০২৫ সালের ২৭ জুলাই নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে সেই তথ্য তুলে ধরে বলা হয়—সে বছর জুনে ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের রাজধানী তেহরান ও পর্যটন-সমৃদ্ধ শিরাজ নগরীতে প্রাচীন পারস্যের এক রাজা, পৌরাণিক আর্চারযোদ্ধা 'আরাশ' ও প্রাচীন রাজধানী পারসেপোলিস শহরের ধ্বংসাবশেষের ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড ঝোলানো হয়। শুধু অতীত নয়, বর্তমানের শৌর্য বোঝাতে সেসব প্রাচীন ঐতিহ্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় আধুনিককালে ইরানের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি।

আসলে এসব বিলবোর্ডের মাধ্যমে ইরান সরকার নিজ দেশের জনগণের কাছে নিজেদের প্রাচীন যুগের গৌরব ও বর্তমানের সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছিল। সেদিন সেই সংবাদ প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল—'জাতীয়তাবাদ উসকে দিতে ইরানের নেতারা ইসলাম-পূর্ব যুগে ফিরে তাকাচ্ছেন'।

অথচ, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রায়শই ইসলাম-পূর্ব ইরানের ইতিহাসকে 'ভ্রান্তিময়' বা 'গর্বের কিছু নয়' বলে মন্তব্য করতেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে, ইরানে ইসলামের আগমন হয় ৭০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। এর আগে সেখানে পারসিক ধর্ম-সংস্কারক জরথুস্তের মতবাদ আধিপত্য বিস্তার করেছিল। খ্রিষ্ট-জন্মের ৬০০ বছর আগে জরথুস্তর ধর্মগুরু হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং তার মতবাদ রাজধর্ম হিসেবে সারা সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

zoroaster_1.jpg
শিল্পীর তুলিতে জরথুস্তের জীবনের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

গবেষকদের ভাষ্য: পরবর্তীতে জরথুস্তের ভাবনা ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্মে প্রভাব ফেলেছিল। তবে জরথুস্তের আগে পারস্যে কোন কোন ধর্ম প্রভাব বিস্তার করেছিল সে বিষয়ে তারা তেমন কোনো তথ্য পাননি।

১৯৩৫ সালে পারস্যরাজ রেজা শাহ পাহলভি (জন্ম: ১৮৭৮- মৃত্যু: ১৯৪৪) পারস্যের নাম পাল্টে ইরান রাখেন। 'ইরান' বলতে বোঝায় 'আর্যদের দেশ'।

ব্রিটানিকা বলছে—ইরানি নৃগোষ্ঠী 'পারসুয়া' থেকে পারস্য ও পারসিক শব্দ দুটি এসেছে।

ইতিহাসের আয়নায় ইরান

বিশ্ব রাজনীতিতে 'ইরান' শব্দটি উচ্চারিত হলে এর সঙ্গে যুক্ত হয় 'পারস্য সাম্রাজ্য' শব্দ দুটিও। এমনকি, ১৯৭৯ সালে ইরানে গণবিপ্লব সংগঠিত হলে তখন সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল—রেজা শাহের পতনের মধ্য দিয়ে ইরানে প্রায় ২,৫০০ বছরের রাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান হয়েছে।

সংক্ষেপে ইমাম খোমেনি হিসেবে বহুল পরিচিত ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয়নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে সে বছর বিপ্লব-পরবর্তী ইরান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রূপ নেয়। প্রায় ৪৭ বছর পর সেই শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণ তীব্র আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় বিশ্ব রাজনীতিতে ইরান ও এর ইতিহাস আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

ruhollah_khomeini.jpg
ইরানের প্রয়াত নেতা রুহুল্লাহ খোমেনি। ফাইল ছবি: এএফপি

ইতিহাস বলছে—খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫৯ থেকে ৩৩০ সাল পর্যন্ত পারস্য পরিচিত ছিল হাখামানিশ বা আকামেনিদ সাম্রাজ্য নামে। সেসময়ের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়—পারস্য সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তৃত ছিল পূবে ভারতের পাঞ্জাবের বিপাশা নদীর তীর, উত্তরে মধ্য-এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং দক্ষিণে আরব উপদ্বীপের উপকূল পর্যন্ত।

এই সাম্রাজ্যের পশ্চিমে ছিল ইউরোপের গ্রিস-বুলগেরিয়া-রোমানিয়া ও ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর-ঘেঁষা এলাকা এবং 'আফ্রিকার শিং' সোমালিয়া, জিবুতি ও ইথিওপিয়া এবং লোহিতসাগর-ঘেঁষা সুদান ও মিশর হয়ে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ভূমধ্যসাগর উপকূল পর্যন্ত।

এই পারস্য সাম্রাজ্যের ভেতরে ছিল আজকের আফ্রিকার ৭ দেশ—সোমালিয়া, জিবুতি, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, সুদান, মিশর ও লিবিয়া; ইউরোপের ৭ দেশ—সাইপ্রাস, গ্রিস, উত্তর মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, ও রাশিয়া এবং এশিয়ার ২৬ দেশ—তুরস্ক, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, সৌদি আরব, ওমান, আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরঘিজিস্তান, চীন ও ভারত।

map_of_the_achaemenid_empire.jpg
প্রাচীন আকামেনিদ সাম্রাজ্যের মানচিত্র। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

অর্থাৎ, আধুনিক যুগের ৪০ দেশ প্রাচীনকালের পারস্য সাম্রাজ্যের অংশ হয়েছিল। তাই ইতিহাসের অনেক পাঠক পারস্য সাম্রাজ্যকে বিশ্বের প্রথম 'পরাশক্তি' হিসেবে দেখেন।

মোটা দাগে ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫৯ সাল থেকে ধরা হয়। সেই হিসাবে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগ পর্যন্ত তথা প্রায় ২,৫০০ বছর সেখানে রাজতন্ত্র ছিল। তাই সেসময় গণঅভ্যুত্থানে পারস্য-রাজ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পতনকে ২,৫০০ বছরের রাজতন্ত্রের পতন হিসেবে দেখা হয়।

এক বাক্যে বলা যায়—খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫৯ সালের পারস্য সম্রাট প্রথম সাইরাস থেকে শুরু করে ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের শেষ শাহ (সম্রাট) মোহাম্মদ রেজা পাহলভি পর্যন্ত ইরানের বহু শাসক দুনিয়াজুড়ে আলোচিত হয়েছেন।

এরমধ্যে, খ্রিষ্টপূর্ব ৩৩০ সালে গ্রিক বীর হিসেবে জগৎ-খ্যাত মেসিডোনিয়ার রাজা আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেটের হাতে পারসিক সম্রাট তৃতীয় দারিয়ুসের পতন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর ৭ বছর পর বেবিলনে মহাবীর আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পর পারস্য সম্রাটদের উত্থান ও বিস্তার ইতিহাসের পাঠকের কাছে আজো বেশ আকর্ষণীয়।

alexander.jpg
মেসিডোনিয়ার কিংবদন্তী শাসক আলেকজান্ডারের মূর্তি। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালে ইরান সরকার সাইরাসের ক্ষমতায় আসার ২,৫০০ বছর পূর্তিতে জাঁকজমক অনুষ্ঠান করেছিল।

বিশ্ব সভ্যতায় ইরানের অবদান

ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থগুলোয় বেশ কয়েকজন ইরানি সম্রাটের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাইরাস দ্য গ্রেট ও দারিয়ুস দ্য গ্রেটের নাম উল্লেখযোগ্য। প্রাচীন ইরানের স্থাপত্য নিদর্শন এইসব মহান শাসকদের হাতে গড়ে উঠেছিল।

মধ্যযুগে 'নেপোলিয়ন অব পার্সিয়া' উপাধিপ্রাপ্ত শাসক নাদির শাহ তার অনন্য সামরিক কৌশলের জন্য ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। ১৭৩৬ সাল থেকে ১৭৪৭ সালের মধ্যে তিনি ইরানকে নতুন উচ্চতায় তুলেছিলেন। সর্বশেষ, ইমাম খোমেনি ইরানের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

ইরানের মাটিতে অনেক নামজাদা মানুষের জন্ম। বিজ্ঞানচর্চায় ইবনে সিনা, আল-বিরুনি, কাব্য-দর্শনে ফেরদৌসি, ফরিদ উদ্দিন আত্তার, জালালুদ্দিন রুমি, ওমর খৈয়াম, সাদি শিরাজি, আল-গাজালি ও হাফিজ শিরাজি এবং বিপ্লব-পরবর্তী ইরানে 'দ্য টেস্ট অব চেরি'-খ্যাত চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিয়ারোস্তমির কথা বলা যেতে পারে।

rumi.jpg
জালালুদ্দিন রুমির সমাধি। ছবি: উইকিমিডিয়া কও

কবি হাফিজ শিরাজির প্রভাব এতটাই ছিল যে বাংলার সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ (রাজত্ব: ১৩৯০–১৪১১) ইরানি কবিকে চিঠি লিখে তার রাজধানী সোনারগাঁও আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বয়স-ভারাক্রান্ত কবি আমন্ত্রণ রক্ষা করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে সুলতানকে একটি কবিতা লিখে পাঠিয়েছিলেন।

এ কথা সবাই জানেন যে, ইরানের ফারসি ভাষাকে বাংলায় মুসলিম শাসকরা রাজ-ভাষার মর্যাদা দিয়েছিলেন। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহ তথা ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় পর্যন্ত ফারসি এদেশের তথা ভারতীয় উপমহাদেশের সরকারি ভাষা ছিল।

শিল্প ও স্থাপত্যকলায় ইরানের খ্যাতি সুবিদিত। ১৫০১ সাল থেকে ১৭৩৬ সাল পর্যন্ত ইরানে সাফাভি রাজবংশের শাসনামলে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহন মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছিল। এই শহরের বিশাল মসজিদ-মাদরাসা, প্রাসাদ, সরকারি ভবন, বাজার ইত্যাদি দেখতে প্রতিবছর বিশ্বের লাখো পর্যটক ভিড় করেন।

শুধু ঐতিহাসিকই নয়, ইরানের আছে প্রাগৈতিহাসিক ঐতিহ্যও। ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই, লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের খোররমাবাদ উপত্যকা ইউনেস্কোর বিশ্ব-ঐতিহ্যের তালিকায় উঠেছে। প্রায় ৬৩ হাজার বছর আগে এই উপত্যকায় মানুষের উপস্থিতি ছিল।

এটি ইরানে ২৯তম ইউনেস্কো বিশ্ব-ঐতিহ্য সাইট বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় লরেস্তঁ প্রদেশে খোররমাবাদ উপত্যকা ছাড়াও সেখানে ৫ হাজারের বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা আছে। এরমধ্যে ২,৬০০ শ-র বেশি এলাকা ইরান সরকার তালিকাবদ্ধ করেছে।

ইরানের ৩ হাজার বছরের বেশি পুরোনা নওরোজ বা নববর্ষের উৎসব অন্তত ১৮টি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপন করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রভাষা ফারসির দুটি ভিন্ন রূপ—'দারি' প্রতিবেশী আফগানিস্তান ও 'তাজিক' প্রতিবেশী তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

nowruz.jpg
ইরানের নববর্ষ উদযাপনের নওরোজ উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

বহু ফারসি শব্দ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার ভাষাগুলোয় প্রতিদিন ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলায় ব্যবহৃত খোদা, পয়গম্বর, নামাজ, রোজা ইত্যাদি হাজারো শব্দ ইরানের ফারসি ভাষা থেকে এসেছে।

ইরানের সাহিত্য-সংগীত, বাদ্যযন্ত্র, স্থাপত্য ও চিত্রকলার প্রভাব দেশটির তিন পাশের তিন মহাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে। যেমন—ক্যালিগ্রাফি, মিনিয়েচার আর্ট, সুফি গান ও পোশাক এবং দিল্লির লালকিল্লা ও আগ্রার তাজমহলের কথা বলা যেতে পারে।

বলা বাহুল্য, ইরানের জাফরান ও গালিচা (কার্পেট) আজো দুনিয়াজুড়ে আভিজাত্যের প্রতীক।

প্রাকৃতিক-সম্পদে সমৃদ্ধ ইরান

প্রকৃতিও ইরানকে সম্পদ দিয়েছে উজাড় করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ইরানে একদিকে যেমন আছে মানবসৃষ্ট অনিন্দ্যসুন্দর অবকাঠামো তেমনি আছে খনিজপণ্য।

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক-এর তথ্য মতে, পেট্রোলিয়াম ছাড়াও ইরানে প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, ক্রোমিয়াম, তামা, আকরিক লোহা, সীসা, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক ও সালফারের খনি আছে।

প্রায় ১৬ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৫ বর্গ কিলোমিটারের দেশ ইরানের জনসংখ্যা ৮ কোটি ৬০ লাখের বেশি। দেশটি বাংলাদেশের প্রায় ১১ গুণ বড়।

গত ৫ জানুয়ারি দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানায়—মজুত খনিজ তেলের দিক থেকে ভেনেজুয়েলা ও সৌদি আরবের পর ইরানের অবস্থান। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার পর ইরানে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত।

Ali Khamenei
লন্ডনে ইরানের দূতাবাসের সামনে খামেনির ছবিতে আগুন ধরিয়ে ধুমপান করছেন এক বিক্ষোভকারী। ছবি: রয়টার্স

এত সম্পদের পরও ইরানের নাগরিকদের অর্থনৈতিক সংকট বেড়ে যাওয়ায় সেখানে চলছে শাসকবিরোধী বিক্ষোভ। সেখানকার অর্থনীতি ভেঙে পড়ার খবর প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রচারিত হচ্ছে। প্রতিবেদনগুলোয় বলা হচ্ছে—সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন বিক্ষোভকারীরা। আর সরকার গণমানুষের আন্দোলনকে দমন করছে 'বিদেশি ষড়যন্ত্রের' কথা বলে।

তবে, প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যের গর্বিত উত্তরাধিকার ইরানকে কোনো অপশাসন বা বিদেশি আগ্রাসন দিয়ে বেশিদিন দমিয়ে রাখা যায় না এর সাক্ষী খোদ ইরানের ইতিহাস।