গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল চতুর্থ দফায় রিমান্ডে
সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক রবিউল ইসলামকে (৪৪) চতুর্থ দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নতুন করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস রবিউলকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ দোহা সুমন এ তথ্য জানান।
এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের পর ২৩ সেপ্টেম্বর রবিউলকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
এরপর ১ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম থানায় রবিউলের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করেন ডিবির পরিদর্শক মেজবা উদ্দিন। মামলায় তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত থাকা, বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই দিন ডিবি ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠান।
মামলার নথি অনুযায়ী, রবিউল ভারতের নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল স্বীকার করেছেন, গত ১০ থেকে ১২ বছরে তিনি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন। তিনি পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, যার বেশিরভাগই ছিল পর্যটন ভিসা।
এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের আড়ালে রবিউল গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত ছিলেন এবং বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন।
এজাহার অনুযায়ী, কথিত এসব কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে রবিউল ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কথিত ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন।
ডিবির অভিযোগ, রবিউল গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।
তদন্তকারীদের তথ্যমতে, রবিউলের পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টে থাকা জন্মতারিখের মিল নেই। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অসংগতিপূর্ণ উত্তর দিয়েছেন বলেও দাবি তদন্তকারীদের। তাদের ভাষ্য, রবিউলের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হয়েছে এবং বারবার বাংলাদেশে আসার সুনির্দিষ্ট কারণও তিনি জানাতে পারেননি।
