শ্রীমঙ্গল প্রায় পর্যটকশূন্য: ছুটির দিনেও ৮০ ভাগ হোটেল রুমে নেই বুকিং
‘চায়ের রাজধানী’ শ্রীমঙ্গলে ঈদের পর পর্যটকের ঢল নামাই স্বাভাবিক। কিন্তু চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে এ বছরের চিত্রটা ভিন্ন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে যেখানে হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁগুলোতে জায়গা ফাঁকা থাকে না, সেখানে বুকিং নেমে এসেছে ২০ শতাংশের আশপাশে।
গত শুক্র ও শনিবার শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে এলাকাগুলো অনেকটাই সুনসান দেখা যায়। অধিকাংশ রিসোর্টের কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। অথচ কয়েক সপ্তাহ আগেও এখানে কক্ষ পাওয়ার জন্য আগাম বুকিং দিতে হচ্ছিল। পর্যটক না থাকায় স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোও ক্রেতাশূন্য।
এই পরিস্থিতির জন্য জ্বালানি সংকটকে দায়ী করছেন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
রাধানগরের ‘প্যারাগন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর জ্যেষ্ঠ রিজার্ভেশন এক্সিকিউটিভ সৈয়দ নাসিম জানান, সাপ্তাহিক ছুটিতে তাদের বুকিং আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। তিনি বলেন, ‘আগে শুক্র ও শনিবার আমাদের গড়ে ৮০ শতাংশ বুকিং থাকত। এখন তা কমে প্রায় ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। বেশির ভাগ পর্যটক অকটেন বা পেট্রলচালিত ব্যক্তিগত গাড়িতে করে আসেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে অনেকেই আসতে পারছেন না।’
হতাশার কথা জানান ‘গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্ট’-এর স্বত্বাধিকারী এবং শ্রীমঙ্গল ট্যুরিজম সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম আহমেদও। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে শ্রীমঙ্গলের হোটেল-রিসোর্টে বলতে গেলে কোনো পর্যটক নেই। বেশির ভাগ জায়গাতেই কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। এতে আমাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।’
ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন সাহাদাত হোসেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে তাকে পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঈদের পর পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রতিবছরই আমরা চা-বাগানে যাই। কিন্তু এবার তেলের সংকটের কারণে গাড়ি জোগাড় করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। ভাড়াও বেশি চাওয়া হচ্ছে। তাই এবার চা-বাগানে বেড়ানো হচ্ছে না।’
লোকসানে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা
রাধানগরের ‘চামুং রেস্তোরাঁ’র সহকারী ব্যবস্থাপক দিলীপ পাশি জানান, পর্যটক না থাকায় তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তিনি বলেন, ‘ছুটির দিনগুলোতে যে ভিড় থাকত, এখন তার ছিটেফোঁটাও নেই। লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর জন্য তেল সংগ্রহ করতে গিয়েও নাজেহাল হতে হচ্ছে।’
শ্রীমঙ্গলের পর্যটন এলাকার খাবার বিক্রেতা সাজিদ হুসাইন বলেন, ‘আমাদের আয় মূলত পর্যটকদের ওপরই নির্ভরশীল। আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেচাকেনা চলত, আর এখন ক্রেতার দেখা পাওয়াই কঠিন।’
রাধানগর ট্যুরিজম এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাস জানান, বছরের এই সময়ে পর্যটকের সংখ্যা কম থাকাটা খুবই অস্বাভাবিক। ঈদের পর এবং বৃষ্টির সময় পর্যটনের নতুন মৌসুম শুরু হয়, কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। জ্বালানির সরবরাহ এবং স্বাভাবিক পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

