ট্রাম্পের অভিষেকে মাস্ক-বেজোস-জাকারবার্গ-পিচাই
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ট্রাম্প-বাইডেন
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিলে ইতোমধ্যে হাজির হয়েছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ট্রাম্প।
আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় (যুক্তরাষ্ট্র সময় দুপুর ১২টা) অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সাধারণত ক্যাপিটলের সামনে এই অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও এবার তীব্র শীতের কারণে ক্যাপিটল ভবনের ভেতরে অনুষ্ঠিত হবে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণ।
২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর আজ থেকে শুরু হচ্ছে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ। এই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক 'সোনালি যুগে' প্রবেশ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই ৭৮ বছর বয়সী রিপাবলিকান।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনই ২০০ নির্বাহী উদ্যোগে সইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। 'ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ও দ্রুতগতির' প্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
লিংকনের বাইবেল হাতে শপথ নেবেন ট্রাম্প
রিপাবলিকান পার্টির প্রথম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের বাইবেল হাতে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের অভিষেক কমিটির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ১৮৬১ সালে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে লিংকন যে বাইবেলে হাত রেখেছিলেন, সেটিই ব্যবহার করবেন ট্রাম্প। সঙ্গে তার ব্যক্তিগত একটি বাইবেলও ব্যবহার করবেন।
২০১৭ সালে প্রথম অভিষেক অনুষ্ঠানেও এই দুই বাইবেলই ব্যবহার করেছিলেন তিনি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার দুই অভিষেক অনুষ্ঠানেই লিংকনের বাইবেল ব্যবহার করেছিলেন।
নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার শপথ গ্রহণে প্রপিতামহীর রেখে যাওয়া একটি পারিবারিক বাইবেল ব্যবহার করবেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং ফার্স্ট লেডি ও সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন; সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে পৌঁছেছেন৷
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। তবে সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। তিনি গত সপ্তাহেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ সোমবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
এর আগে পরিবারের উপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন জেডি ভ্যান্স।
প্রেসিডেন্টের শপথ মার্কিন সংবিধানে নির্ধারিত থাকলেও ভাইস প্রেসিডেন্টের জন্য কোনো নির্দিষ্ট শপথবাক্য নেই। এটি কংগ্রেস দ্বারা প্রণীত এবং মার্কিন আইনে অন্তর্ভুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতারা এই একই শপথবাক্য পাঠ করে থাকেন।
ভ্যান্সের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানা।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ্য বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্নিনটন, জর্জ ডাব্লিউ বুশ, বারাক ওবামাসহ অনেকেই।
ক্যাপিটল রোটান্ডায় অভিষেক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যদের পেছনেই আসন গ্রহণ করেছেন প্রযুক্তিখাতের প্রভাবশালী কর্তাব্যক্তিরা।
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে ছিলেন এক্স ও টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী চেয়ারম্যান জেফ বেজোস, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ ও গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই।
বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেটওয়ার্কগুলোর নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি তারা বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিত্বও।
সিএনএনের মতে, এটি প্রযুক্তিখাতের বিলিয়নিয়ারদের সঙ্গে ট্রাম্পের সখ্যতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। জো বাইডেন তার বিদায়ী ভাষণে প্রযুক্তিখাতের বড় কোম্পানিগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি তার দ্বিতীয় মেয়াদ।