মেসির ৯০০ গোলের মাইলফলকের পরও বিদায় মায়ামির
ক্যারিয়ারের এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক ছুঁয়েও শেষ পর্যন্ত হাসি ফোটেনি লিওনেল মেসির মুখে। তার ৯০০তম গোলের রাতেই কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে হতাশাজনক বিদায় নিতে হয়েছে ইন্টার মায়ামিকে। নাশভিল এসসির কাছে হেরে রাউন্ড অব ১৬ থেকেই ছিটকে গেছে তারা।
গত সপ্তাহে নাশভিলে প্রথম লেগে ০-০ ড্র করার পর দ্বিতীয় লেগে ফোর্ট লডারডেলে সফরকারীদের সামনে সমীকরণটা ছিল সহজ, গোলশূন্য বাদে যে কোনো ড্রই যথেষ্ট ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জন্য, কারণ কনকাকাফ এখনও অ্যাওয়ে গোল নিয়ম ব্যবহার করে। সেই ‘সহজ’ সমীকরণই শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠে স্বাগতিকদের জন্য।
ম্যাচের শুরুতেই সবকিছু যেন মায়ামির পক্ষে যাচ্ছিল। ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটের মধ্যেই নিজের ঐতিহাসিক ৯০০তম গোলটি করে বসেন লিওনেল মেসি। সার্জিও রেগুইলনের পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণ করে দুই টাচে ডিফেন্ডার জেইসন পালাসিওসকে কাটিয়ে নিচু শটে জালে বল জড়ান আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
৩৮ বছর বয়সী মেসি প্রথম লেগে ছিলেন নিস্তেজ, এমনকি গত সপ্তাহান্তে শার্লটের বিপক্ষে এমএলএস ম্যাচেও বিশ্রামে ছিলেন। ফলে ৯০০তম গোলের অপেক্ষা কিছুটা দীর্ঘ হয়েছিল। তবে চেজ স্টেডিয়ামে তার দ্রুত গোল মায়ামিকে যেন কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে দিচ্ছিল।
কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে ধীরে ধীরে। প্রথমার্ধের ৪০ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সার্জিও রেগুইলন। দ্বিতীয়ার্ধে নাশভিল ধীরে ধীরে ম্যাচে দখল বাড়াতে থাকে। হানি মুখতারের একটি এক-অন-ওয়ান সুযোগ নষ্ট হওয়া ছিল সতর্কবার্তা।
অবশেষে ৭৪ মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত, ক্রিস্টিয়ান এসপিনোজার ভলিতে সমতা ফেরায় নাশভিল। মায়ামির পেনাল্টি বক্সে জটলার সুযোগ নিয়ে গোললাইন থেকে গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারের দুর্বল ক্লিয়ারেন্স কাজে লাগিয়ে গোলটি করেন তিনি। এই ১-১ ড্রই নাশভিলকে অ্যাওয়ে গোল নিয়মে এগিয়ে দেয়।
শেষ দিকে চাপ সৃষ্টি করেও আর গোলের দেখা পায়নি মায়ামি। ফলে বিদায় নিতে হয় বড় হতাশা নিয়েই। শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামা দলটির জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।
এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নাশভিল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ মেক্সিকোর ক্লাব আমেরিকা। একই রাতে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়েছে তারা। ফলে এমএলএসের বর্তমান কাপ চ্যাম্পিয়ন মায়ামি এবং সাপোর্টার্স শিল্ডজয়ী ফিলাডেলফিয়া, দুই দলই বিদায় নিয়েছে আগেভাগেই।