‘এর চেয়ে বেশি খুশি বা গর্বিত হতে পারতাম না’, বললেন আর্সেনাল কোচ
মঙ্গলবার রাতে এমিরেটসের সবুজ ঘাসে যখন শেষ বাঁশি বাজল, মিকেল আর্তেতাকে চেনা দায় ছিল। ডাগআউট থেকে এক দৌড়ে মাঠে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন ফুটবলারদের, গ্যালারির দিকে তাকিয়ে মেতে উঠলেন বুনো উল্লাসে। অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করার পর এই স্প্যানিশ কোচের চোখেমুখে ছিল ইতিহাস গড়ার তৃপ্তি।
সংবাদ সম্মেলনে এসে আর্তেতা সোজাসুজিই বললেন, ‘এই ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের জন্য আমি এর চেয়ে বেশি খুশি বা গর্বিত হতে পারতাম না। আমাদের সবার আকাঙ্ক্ষা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা আজ এক বিন্দুতে মিলেছে।’
অবিশ্বাস্য এক রাত
আর্সেনালের ইতিহাসে এটি মাত্র দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠা। আর্তেতার কাছে এটি কেবল একটি জয় নয়, বরং একটি ‘অবিশ্বাস্য রাত’। তিনি মনে করেন, গত এক সপ্তাহে দলের ভেতরে বিশ্বাসের যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আর্তেতার ভাষায়, ‘সবাই শক্তি আর বিশ্বাসের একটা বড় পরিবর্তন অনুভব করতে পারছে। আমাদের এখন সেই সক্ষমতা আর দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে আমরা বড় কিছু অর্জন করতে পারি।’
ম্যাচটি সহজ ছিল না। প্রথমার্ধের ঠিক আগে অধিনায়ক বুকায়ো সাকার সেই লক্ষ্যভেদ আর পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে রক্ষণভাগের দেয়াল হয়ে থাকা—এই দুইয়ের ওপর ভর করেই ২-১ ব্যবধানে (দুই লেগ মিলিয়ে) জয় নিশ্চিত করে গানার্সরা। এটি ছিল চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্সেনালের নবম ‘ক্লিন শিট’। সাকার এই গোলটি আর্সেনাল সমর্থকদের ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।
এবারের জয়ের মাধ্যমে আর্তেতার দল স্পর্শ করেছে ৫৫ বছর আগের এক অনন্য রেকর্ড। ১৯৭১ সালে এক মৌসুমে ৪১টি ম্যাচ জিতেছিল আর্সেনাল; মঙ্গলবার রাতে সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল তাঁর শিষ্যরা। আর্তেতা জানান, এমিরেটসের গ্যালারি আর মাঠের বাইরের এই উন্মাদনা তিনি আগে কখনও অনুভব করেননি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে। সেখানে আর্তেতার দলের প্রতিপক্ষ হবে পিএসজি অথবা বায়ার্ন মিউনিখ। তবে ফাইনালের ঠিক এক সপ্তাহ আগে আর্সেনালের সামনে সুযোগ রয়েছে ২২ বছরের আক্ষেপ মিটিয়ে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা উঁচিয়ে ধরার।
মাঝমাঠের চালিকাশক্তি ডেক্লান রাইসও কোচের সুরেই কথা বললেন, ‘আমরা আমাদের ছন্দ ফিরে পেয়েছি। ফুটবলে আত্মবিশ্বাসই সব। সামনে এখন আমাদের বড় পরীক্ষা।’ আর্তেতার হাত ধরে আর্সেনাল এখন সেই নতুন দিনের অপেক্ষায়, যেখানে ইউরোপীয় গৌরব আর লিগ শিরোপা—দুটোই হতে পারে তাদের সঙ্গী।