বিশ্বকাপ ম্যাচের টিকিটের চেয়ে বেশি দামে পার্কিং বিক্রি করছে ফিফা

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপের উত্তেজনা এতটাই উষ্ণ যে, শুধু ম্যাচের টিকিট নয়, স্টেডিয়ামে গাড়ি পার্ক করার জন্যও ফ্যানদের প্রচুর টাকা খরচ করতে হবে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচগুলোর জন্য ফিফা পার্কিং পাস প্রতি স্পট ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে বিক্রি করছে, যা কিছু ম্যাচের টিকিটের চেয়ে অনেক বেশি।

ফিফার অফিশিয়াল পার্কিং ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই পার্কিং স্পটগুলো সোফি স্টেডিয়ামের এক মাইলের বেশি দূরত্বে অবস্থিত। লস অ্যাঞ্জেলেসে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ম্যাচ এবং একটি কোয়ার্টারফাইনাল অন্তর্ভুক্ত। এই দুটি ম্যাচের পার্কিং স্পটের দাম ৩০০ ডলার, বাকি ছয়টির জন্য দাম ২৫০ ডলার। তুলনায়, একই ম্যাচের ক্যাটাগরি ৩ টিকিটের দাম ১৪০ থেকে ১৮০ ডলার।

ফিফার এক মুখপাত্র জানান, পার্কিং মূল্যের হিসাব স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি এবং পূর্বের বড় ইভেন্টের তুলনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে ২৫০ ডলারের স্পটগুলো মূলত ইনটুইট ডোমের ভিআইপি ওয়েস্ট গ্যারেজ বা তার আশেপাশে অবস্থিত, যা সোফি স্টেডিয়ামের হলিউড পার্ক ক্যাম্পাসের বাইরে। ফিফার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, পার্কিং স্পট থেকে স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে প্রায় ২১ মিনিট হাঁটা লাগতে পারে, যদিও নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট এবং প্রবেশ পথের কারণে সময় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

তুলনামূলকভাবে, এনবিএ ক্লিপার্সের ম্যাচে পার্কিং খরচ ছিল ৫৬.৫০ ডলার, এবং লস অ্যাঞ্জেলেস র‌্যামসের এনএফএল ম্যাচে ২০২৫ সালে পার্কিং খরচ ৭১ ডলার। তবে বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামের আশেপাশের লটগুলো সাধারণত ফ্যান পার্কিং-এর জন্য খোলা থাকবে না, বরং হোস্ট, স্পন্সর বা অন্যান্য অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত হবে।

ফিফা মূলত স্পটের সীমিত সরবরাহের সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে, যা মার্কিন খেলাধুলার অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজির মতো হলেও মাত্রার পার্থক্য রয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের পার্কিং ছাড়াও অন্যান্য শহরগুলোতেও ফ্যানদের অভিভূত করেছে দাম। উদাহরণস্বরূপ, ক্যানসাস সিটি, আরলিংটন ও অ্যাটলান্টার গ্রুপ স্টেজ ম্যাচের জন্য পার্কিং ৭৫ ডলার থেকে শুরু, যা ২০২২ সালের কাতারের বিশ্বকাপের কিছু টিকিটের চেয়ে বেশি। মিয়ামিতে শুরুতে পার্কিং ছিল ৭৫ ডলার, পরে তা বাড়িয়ে ১০০ ডলার করা হয়েছে।

ফিলাডেলফিয়ায় গ্রুপ স্টেজ পার্কিং খরচ ১১৫ ডলার, এবং সেমিফাইনাল বা নাইট ম্যাচে এটি বৃদ্ধি পেয়েছে ২০০–২২৫ ডলার পর্যন্ত। ফিফা জানিয়েছে, এই পার্কিং পাসের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিশ্বকাপের মোট আয় ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অংশ, যা টুর্নামেন্টের পরিচালনা এবং ফুটবল উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।