ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন ফিফা সভাপতি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। একই সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বানকেও নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ফিফার পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ইনফান্তিনো।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর আটক করা এবং জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেও দমে যাননি ফিফা বস।
সোমবার স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ফিফার প্রবর্তিত প্রথম শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পই যোগ্য। তার ভাষায়, 'বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার করলে তিনি এটার যোগ্য।'
ইনফান্তিনো আরও বলেন, 'বিশ্বে শান্তি ফেরাতে আমাদের যা যা করার আছে, তা করা উচিত। যারা এই লক্ষ্যে কাজ করছেন তাদের পুরস্কৃত করার ভাবনা থেকেই আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি।'
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসছে বিশ্বকাপের আসর। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতির প্রতিবাদে টুর্নামেন্টটি বয়কটের দাবি তুলেছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি নিয়ে মিনিয়াপোলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
তবে বয়কটের প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিয়ে ইনফান্তিনো প্রশ্ন তোলেন, কোনো দেশের নীতির কারণে তো ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বয়কট করা হয় না, 'তাহলে ফুটবলের ক্ষেত্রে কেন হবে'
৫৫ বছর বয়সী এই কর্মকর্তা বলেন, 'বর্তমান বিভক্ত ও সহিংস পৃথিবীতে ফুটবলই এমন এক মাধ্যম যা মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে।'
সাক্ষাৎকারে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ইনফান্তিনো। ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে রাশিয়া সব ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ রয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) রুশ তরুণদের খেলার অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
এ প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো বলেন, 'আমাদের অবশ্যই রাশিয়াকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি দেখতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা আসলে কোনো সুফল আনেনি, বরং ঘৃণা ও হতাশা বাড়িয়েছে। রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা যদি ইউরোপের মাঠে ফুটবল খেলতে পারে, তবে সেটি শান্তির পথই সুগম করবে।'