বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড কাম্পাজকে হত্যার হুমকি
বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায়ের ক্ষত এখনো দগদগে। এর মধ্যেই নতুন এক বিভীষিকার মুখোমুখি কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড জামিন্টন কাম্পাজ। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত হিসেবে এখন তাকে পেতে হচ্ছে ‘হত্যার হুমকি’। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে দেশের ফুটবল ফেডারেশন, তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িতদের খুঁজে বের করতে শুরু হয়েছে আইনি তৎপরতা।
কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফসিএফ) শুক্রবার এক বিবৃতিতে কাম্পাসের পাশে দাঁড়িয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, ‘কোনো ক্রীড়াবিদ বা তার পরিবারের কোনো সদস্যকে খেলার মাঠে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এভাবে হুমকির সম্মুখীন করা মোটেও উচিত নয়।’
গত মঙ্গলবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় লাতিন আমেরিকার দেশটি। তবে ম্যাচের ভাগ্য হয়তো অন্যরকম হতে পারত। অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার ক্লাব রোজারিও সেন্ট্রালের এই তারকা গোল করার একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু তার নেওয়া শটটি গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো দল।
ম্যাচ শেষের সেই হতাশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রকাশ করেছিলেন কাম্পাজ। ইনস্টাগ্রামে নিজের মুখ ঢেকে রাখার একটি ছবি পোস্ট করে সবার কাছে শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার অনুরোধ জানান তিনি। কাম্পাস লেখেন, ‘ফুটবলে এমন কঠিন মুহূর্তও আসে। আমার প্রিয় কলম্বিয়া, দয়া করে আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা যেন কখনো হারিয়ে না যায়। আমরা ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারি, আমাদের মনে হতাশা ও দুঃখ আসতেই পারে; কিন্তু কোনো আবেগই ঘৃণা ছড়ানো বা ভয়ে বেঁচে থাকাকে সমর্থন করে না।’
কাম্পাজকে এভাবে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছে না কলম্বিয়ার ফুটবল প্রশাসন। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শনাক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অন্ধ সমর্থকদের উদ্দেশে তারা বলেছে, মাঠের হতাশা যেন কোনোভাবেই বাস্তব জীবনের সহিংসতায় রূপ না নেয়। ফেডারেশনের ভাষায়, ‘ফুটবলকে সবসময় ঐক্য, সম্মান ও আশার জায়গা হতে হবে—কখনোই ঘৃণা, ভয় দেখানো বা সহিংসতার পরিবেশ নয়।’
এই ঘটনা কলম্বিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ৩২ বছর আগের এক অন্ধকার ও ট্রাজিক অধ্যায়ে। ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচে একটি আত্মঘাতী গোল করেছিলেন কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়ে দেশে ফেরার মাত্র কয়েক দিন পরই মেদেলিন শহরে আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল এসকোবারকে। কাম্পাজকে দেওয়া এই নতুন হুমকি তাই স্বাভাবিকভাবেই পুরো ফুটবল বিশ্বকে নতুন করে শঙ্কিত করে তুলছে।