যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া: যে বিষয়গুলো জানা প্রয়োজন
প্রতি বছরই প্রচুর সংখ্যক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান উচ্চশিক্ষার জন্য। এর অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ফান্ডিং ব্যবস্থা, যা আসলে ইউরোপ বা অন্যান্য দেশগুলোর স্কলারশিপ বা স্টাইপেন্ড থেকে ভিন্ন। আবার ফান্ডিং পাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে নয়, বরং নিজ নিজ বিভাগেই টিচিং কিংবা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার সুযোগ মেলে।
আই-২০
স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হলো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা স্কুল থেকে আই-২০ সংগ্রহ করা। মূলত আই-২০ একজন শিক্ষার্থীর পরিচিতি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, যেখানে শিক্ষার্থীর নাম, জন্ম তারিখ, ভর্তি হওয়া প্রোগ্রামের নাম, মেজর, কোর্সের সময়কাল এবং মোট খরচের হিসাবসহ প্রতিটি বিষয় উল্লেখ করে। এই ফর্ম পাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে অবশ্যই এটি গুরুত্বসহকারে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ এটি ভিসা সাক্ষাৎকার এবং আমেরিকায় ইমিগ্রেশনের সময় প্রয়োজন হবে।
ডিএস-১৬০ ফর্ম: নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা ফর্ম
এরপরের ধাপ হলো ডিএস-১৬০ ফর্ম পূরণ করা, যা হলো নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসার অনলাইন আবেদন ফর্ম। এটি কনস্যুলার ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের (সিইএসি) ওয়েবসাইট থেকে পূরণ করা হয়। এই ফর্মে বেশ কয়েকটি ধাপ থাকে, যার প্রতিটিই খুব সতর্কতাবশত পূরণ করতে হয়। এখানে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত, পারিবারিক তথ্য থেকে শুরু করে, পাসপোর্ট, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা এবং সব শেষে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন, সেখানকার নাম, ঠিকানা, সেভিস নম্বরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।
ফর্মটির প্রতিটি ধাপ পূরণ করার সময়েই তথ্যগুলো সেভ অপশনে যেয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর সব শেষে আপনার ছবি আপলোড করার পর সাবমিট করে অবশ্যই একটি কনফার্মেশন কপি প্রিন্ট করে রাখবেন। কেননা পরবর্তীতে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় এটি আপনাকে জমা দিতে হতে পারে।
ডিএস-১৬০ ফর্ম পূরণে কোনো ভুল বা অসঙ্গতি রাখা যাবে না। কারণ এটি আপনার ভিসা অনুমোদনে প্রভাব ফেলবে। ডিএস-১৬০ জমাদানের পর শিক্ষার্থীকে একটি নির্দিষ্ট মূল্যের ভিসা আবেদন ফি, যা এমআরভি ফি হিসেবে পরিচিত, দিতে হয়। বাংলাদেশে সাধারণত এটি নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। ফি প্রদানের রসিদও সংরক্ষণ করতে হবে পরবর্তীতে ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনার ছবি। ছবির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আছে, যা ওয়েবসাইট থেকে জেনে নিতে হবে। যেমন: ছবি তোলার সময় চশমা পরা যাবে না এবং আপনার ছবি গত ছয় মাসের মধ্যেই হতে হবে।
সেভিস ফি
আই-২০ ফর্ম পাওয়ার পর শিক্ষার্থীকে সেভিস ফি, যা মূলত স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ইনফরমেশন ফি, দিতে হয়। সেভিস ফির জন্য শিক্ষার্থীদের সাধারণত ৩৫০ মার্কিন ডলার প্রদান করতে হয় এবং এটি অনলাইনে ওয়েবসাইট থেকেই দেওয়া যায়। পেমেন্ট করার জন্য আপনার আন্তর্জাতিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড প্রয়োজন হবে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংক ট্রান্সফার বা চেক কিংবা ম্যানি অর্ডারের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়ার অপশনও থাকে।
সাধারণত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৩০০ ডলারের বেশি একবারে পে করার অপশন থাকে না। তাই হয়তো আগে থেকেই ব্যাংককে জানিয়ে রাখতে হবে ক্রেডিট লিমিট বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এই ফি প্রদানের পরও একটি ইলেকট্রনিক রসিদ প্রিন্ট করে রাখতে হবে। কেননা ডিএস-১৬০’র মতো এটিও ভিসা ইন্টারভিউতে আপনার প্রয়োজন হবে।
ভিসা ইন্টারভিউয়ে যে কাগজগুলো অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন
ভিসা ইন্টারভিউয়ের দিন শিক্ষার্থীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজ সঙ্গে নিয়ে যেতে হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রিন্ট করা ডিএস-১৬০ কনফার্মেশন পেজ, আই-২০ ফর্ম, সেভিস ফি রসিদ, আপনার পাসপোর্ট, এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ও মার্কশিট, আর্থিক প্রমাণ, (ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিংবা স্কলারশিপ সার্টিফিকেট)। এ ছাড়াও পূর্বের ভিসা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে তার কপি সঙ্গে রাখা প্রয়োজন। ইন্টারভিউয়ে সাধারণত জিজ্ঞাসা করা হয় কেন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে চাইছে, কোন প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছে এবং কে তার আর্থিক সহায়তা দেবে। এছাড়াও প্রমাণ দিতে হতে পারে যে পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থী দেশে ফিরে আসবে কি না।
পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে অনুসরণ করলে কিছুটা জটিল হলেও সহজে সম্পন্ন করা যায়। সঠিক তথ্য প্রদান, নথি প্রস্তুত রাখা, প্রতিটি ফি জমা দেওয়া এবং ফর্ম সঠিকভাবে পূরণ করা শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়েই বিষয়গুলো করতে হবে।



