ইরানে শিগগির স্বৈরাচারের পতন হবে: নেতানিয়াহু
গত তিন বছরের মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় আকারের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা কর্তৃত্ববাদী সরকারের প্রতি এটাই ইরানের জনগণের ছুঁড়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় আকারের চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে এই বিক্ষোভ দুই সপ্তাহ পার করেছে।
চরম উত্তপ্ত ও সংঘাতময় এই পরিস্থিতির 'আগুনে ঘি ঢেলেছেন' ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দাবি করেছেন, শিগগির ইরানের 'স্বৈরাচারের' পতন হবে।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
নেতানিয়াহু আজ রোববার বলেন, তিনি আশা করছেন খুব শিগগির ইরান 'স্বৈরাচারের নাগপাশ' থেকে মুক্তি পাবে।
ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে ইসরায়েলি নেতা বলেন, 'আমরা সবাই আশা করছি পারস্য জাতি (ইরান) খুব শিগগির স্বৈরাচারের নাগপাশ থেকে মুক্তি পাবে। এবং যখন সেই (পতনের) দিনটি আসবে, তখন আবারও ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের বিশ্বস্ত অংশীদারে পরিণত হবে এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের জনগণের উন্নয়ন ও শান্তি নিশ্চিত হবে।'
একটি নরওয়েভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের দাবি, চলমান বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষ 'নির্বিচারে হত্যার' আশ্রয় নিয়েছে এবং ইতোমধ্যে অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
এর আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, বিক্ষোভ দমনের কাজে নিযুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন।
পাশাপাশি, ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার রোববার বলেন, ইসরায়েল ইরানের জনগণের 'স্বাধীনতার সংগ্রামের' প্রতি সমর্থন জানায়।
নিজের এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমরা ইরানের জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রামকে সমর্থন করি এবং তাদের সাফল্য কামনা করি।'
'আমরা মনে করি তারা স্বাধীনতা পাওয়ার যোগ্য। ইরানের জনগণের প্রতি আমাদের কোনো বিরূপ মনোভাব নেই', যোগ করেন তিনি।
গিদেওন সার আরও বলেন, 'আমাদের সামনে একটি বড় ধরনের সমস্যা আছে। তবে এটা শুধু আমাদের সমস্যা নয়। এটা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা। ওই সমস্যা ইরানের (বর্তমান) শাসকের সঙ্গে। তারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদের শীর্ষ রপ্তানিকারক।'
এক পৃথক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির জানান, তারা 'ইরানের চলমান ঘটনাক্রম নিরীক্ষা করছেন।'
তিনি মত দেন, 'এসব বিক্ষোভ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তা সত্ত্বেও, আইডিএফ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে নিজেদের সক্ষমতা ও প্রস্তুতির মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে।'
ইরান যদি ইসরায়েল হামলার চেষ্টা চালায়, তাহলে 'প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো ধরনের জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত থাকব', বলেন তিনি।
সাপ্তাহিক ছুটিতেও বেশ কয়েকটি বৈঠকে যোগ দেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা।


