সন্তানের ব্যাপারে এআইকে যে প্রশ্ন কখনোই করবেন না
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের কারো বন্ধু নয়। এটি আমাদের গোপনীয়তাও রক্ষা করে না। অথচ অনেক বাবা-মা সন্তানের বিভিন্ন তথ্য দিয়ে এআইয়ের কাছে পরামর্শ চায়। কিন্তু টেক বিশেষজ্ঞরা সবসময় বলে আসছেন, চ্যাটবটকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা উচিত নয়।
ম্যাশেবলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চ্যাটবটের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার মানে বড় ধরনের ঝুঁকি। আমরা হয়তো সন্তানের ছোট একটি সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন শুরু করি, কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ও জিজ্ঞেস করতে শুরু করি। এতে সন্তানের তথ্য ফাঁস বা অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ে।
২০২৫ সালের এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে বিডার্স ডাইজেস্ট জানায়, ৬৫ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে কয়েকবার এআই ব্যবহার করে। আর ৩০ বছরের নিচে এক-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিদিনই এআই ব্যবহার করে।
সবকিছু বলার সমস্যা কী
মূলত এআই চ্যাটবটগুলো আমাদের কথোপকথন থেকে শেখে। এমনকি আমরা যা লিখছি তা কোনো কোম্পানি, ডেভেলপার, এমনকি বিজ্ঞাপনদাতার কাছেও যেতে পারে। এছাড়া যাদের কাছে ডিভাইস বা অ্যাকাউন্টের অ্যাক্সেস আছে, তারাও এই চ্যাট দেখতে পারে।
এছাড়া এআই আমাদের ভুল তথ্য দিতে পারে। হয়তো সন্তানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করছি, তবে তার উত্তর পাচ্ছি ভুল। এই ভুল উত্তর আমাদের সিদ্ধান্ত ও সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অনেক সময় এআই তোষামোদি আচরণ করে। মানে আমাদের মন্তব্য বা ধারণার সঙ্গে একমত হতে চায়। এতে আমাদের ভুল ধারণাগুলো আরও শক্ত হয়।
যেসব বিষয়ে জিজ্ঞেস করা উচিত নয়
এআই চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপনীয়তার আইন মানতে বাধ্য নয়। এছাড়া ভুল রোগ নির্ণয় বা বিপজ্জনক পরামর্শও দিতে পারে। এআইকে কখনোই মানসিক বিষয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। কারণ চ্যাটবট থেরাপিস্ট নয়। বরং এটি সন্তানের সমস্যাকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
সন্তানের ছোট ছোট ভুল বা অপরাধ সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন এআইকে করা যাবে না। কারণ এটি আমাদের কথোপকথন মেমোরাইজ করে রাখে। তাই অপরাধ বা ভুল সংক্রান্ত প্রশ্ন করলে এটি সন্তানকে অপরাধী হিসেবে দেখাতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই তথ্য ফাঁস হতে পারে বা অন্য কোথা ও যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে, সব এআই সমান নিরাপদ নয়। বেশিরভাগ এআই চ্যাটবট ডিফল্টভাবে আমাদের ডেটা ব্যবহারের অনুমতি থাকে। তাই এটা নিজেকে বন্ধ করতে হয়।
আগে তথ্য শেয়ার করলে এখন করণীয়
চ্যাটবটে প্রবেশ করে আগের চ্যাট হিস্ট্রি ডিলিট করতে হবে। মেমোরি ডিলিট করতে হবে। একইসঙ্গে এআইকে ‘ভুতে যেতে’ বলতে হবে। আর নিজে প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন করে নিতে হবে। তবে কিছু ডেটা ব্যাকআপ কিছুদিন থাকতে পারে।
এআই থেকে নিরাপদ থাকতে ‘টেম্পোরারি চ্যাট’ ব্যবহার করতে হবে। ডেটা শেয়ারিং বন্ধ করা দরকারি। চ্যাটবটের বদলে সাধারণ ব্রাউজার ব্যবহার করা। খুব দরকারি হলে বই, চিকিৎসক, বা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া। সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো সন্তানের কোনো তথ্য শেয়ার না করা।
শেষকথা সন্তানের যে তথ্য আমরা সবার সামনে বলতে চাই না, সেই তথ্য কখনোই চ্যাটবটে লিখব না।