চট্টগ্রামে ৬৬৫টি ও নরসিংদীতে ২৫০টি কেন্দ্র ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা পুলিশের আওতাধীন মোট ১ হাজার ৯৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৫৫টিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
নরসিংদীর ৫টি সংসদীয় আসনে ৬৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রেখেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ২৫০টি কেন্দ্রকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের এক-তৃতীয়াংশ কেন্দ্র উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরের ৪টি সংসদীয় আসন ও হাটহাজারী আসনের অংশবিশেষ মিলিয়ে ১৬টি থানার আওতায় মোট ৬০৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩১০টি কেন্দ্রকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া কোতোয়ালী থানার ৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি, সদরঘাট থানার ২৩টির মধ্যে ১৫টি, চকবাজার থানার ১৬টির মধ্যে ৪টি, বাকলিয়া থানার ৩৯টির মধ্যে ১৩টি, চান্দগাঁও থানার ৫৬টির মধ্যে ২৭টি, পাঁচলাইশ থানার ৩২টির মধ্যে ১৯টি, বায়েজিদ বোস্তামী থানার ৫৬টির মধ্যে ১৮টি, ডাবলমুরিং থানার ৪৮টির মধ্যে ১৮টি, হালিশহর থানার ৪২টির মধ্যে ৩২টি, পাহাড়তলী থানার ২৮টির মধ্যে ২০টি, ইপিজেড থানার ৩১টির মধ্যে ১৩টি, পতেঙ্গা থানার ২৫টির মধ্যে ৭টি এবং কর্ণফুলী থানার ৪৭টির মধ্যে ১৯টি কেন্দ্রকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের আওতাধীন ১ হাজার ৩৫৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৫টি কেন্দ্রকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে— ‘সাধারণ’, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলতে মূলত ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রকে বোঝানো হলেও কারিগরি কারণে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) আহসান হাবিব পলাশ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ ইতোমধ্যে বডিক্যামসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
নরসিংদীর ৬৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নরসিংদীর ৬৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৯৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৫০টি ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।’
‘অতীত রেকর্ড, অপরাধের ধরণ, ভৌগোলিক অবস্থান, কেন্দ্রের পূর্বের ইতিহাসসহ আরও নানা কারণে এসব এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে,’ বলেন তিনি।
নরসিংদীর ৫টি সংসদীয় আসনে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৭ জন।
জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অধিকাংশ কেন্দ্রের অবস্থান চরাঞ্চলে। এর মধ্যে রয়েছে নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী, মাধবদীর চরদিঘলদী, রায়পুরা উপজেলা নিলক্ষা, মির্জারচর, চরমধোয়া, বাশবাড়ী ও শ্রীনগর।
এখানে থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। সবশেষ আজ বুধবার রায়পুরা উপজেলা শ্রীনগরে হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়া গ্রুপের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক কিশোর নিহত হয়েছেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা নিশ্চিত করা, অতিরিক্ত প্রশাসন মোতায়েনসহ নানা স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। সামনে আমাদের আরও সভা অনুষ্ঠিত হবে। কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’