এই ১০ ভুলে ক্যারিয়ারে পিছিয়ে পড়ছেন না তো?

শ
শবনম জাবীন চৌধুরী

ক্যারিয়ারে প্রত্যেকেই কখনো না কখনো নিজেকেই প্রশ্ন করেছেন, সফল হতে হলে কী করতে হবে? কাঙ্ক্ষিত সুবর্ণ সুযোগটি পেতে আর কতটা পথ পেরোতে হবে? নিজেকে আর কতটা উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে?

এই প্রশ্নগুলো আপনার কাছেও খুব পরিচিত মনে হচ্ছে, তাই তো? জীবনে সফল হওয়ার একটুকরো স্বপ্ন বুকে নিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলেছেন। কিন্তু মনে হচ্ছে, কোনো এক অদৃশ্য বাধার কারণে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সঙ্গে আপনার দূরত্বটা যেন কিছুতেই কমছে না।

ব্যাপারটা অনেকটা এমন নয় কি, আপনারই কিছু পদক্ষেপ বা অভ্যাস আপনাকে ক্যারিয়ারে পিছিয়ে দিচ্ছে? সবচেয়ে বড় বাধাটা হয়তো আপনিই নিজেই।

যে কাজগুলো আমাদের ক্যারিয়ারে পিছিয়ে দিতে পারে

১. সুযোগ আসার অপেক্ষা

সুযোগ নিজে থেকে হেঁটে হেঁটে আপনার কাছে এসে কখনো বলবে না, ‘তুমিই তো সেইজন, যাকে আমি খুঁজছিলাম’। কেউ আপনাকে সুযোগ তৈরি করে দেবে, এই অপেক্ষায় কখনো বসে থাকবেন না। এটা খুবই বিরল ঘটনা যে কেউ আপনাকে খুঁজে বের করে সুযোগ দেবে, অথবা আপনার এমন কারও সঙ্গে দেখা হবে, যিনি আপনার মতো একজনকেই খুঁজছিলেন। এমনটা ঘটার সম্ভাবনা কতটুকু, একবার ভেবে দেখুন তো!

প্রতিযোগিতার এই যুগে সুযোগ কখন আসবে বা কীভাবে আসবে, তা ভেবে বসে থাকার সময় আমাদের নেই। তাই সুযোগের অপেক্ষায় থেকে নিজের সময় নষ্ট করবেন না। এর পরিবর্তে আপনার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য পরিশ্রম করুন, নিজের স্কিল ডেভেলপ করুন এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তুলুন।

২. সবসময় অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা

ক্যারিয়ারে প্রত্যেকেরই নিজস্ব লক্ষ্য ও গন্তব্য থাকে। অন্যের পথ যেখানে আমাদের অজানা, সেখানে কেন আমরা নিজেদের অন্যের সঙ্গে তুলনা করব?

সহকর্মী বা চারপাশের মানুষের সফলতা দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের সঙ্গে নিজের তুলনা করা নয়। কারণ, আপনি জানেন না সেই সাফল্যের পেছনে তাদের কতটা পরিশ্রম, সময় ও ত্যাগ রয়েছে।

অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে করতে আমরা নিজের লক্ষ্য থেকেই সরে যেতে পারি। তাই অন্যের স্বপ্নের পেছনে না ছুটে প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলুন।

৩. পরিশ্রমে ঘাটতি

ক্যারিয়ার জীবনে আপনি কখনো কখনো হাল ছেড়ে দিতে চান। ভেবে বসেন, ‘না, আমাকে দিয়ে হবে না’। কিন্তু সফলতা পেতে হলে নিরলস পরিশ্রম করে যেতে হয়। সফল হতে হলে কোনো কিছু নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লে চলবে না। বরং বুদ্ধি খাটিয়ে পরিশ্রম করে যেতে হবে।

নিজেকে নিয়ে দ্বিধায় পড়বেন না, খুব সহজেই কোনো সিদ্ধান্তে চলে আসবেন না বা হাল ছেড়ে দেবেন না। সফলতার পথে বাধা আসবেই। আপনাকে শুধু মনে আশা রেখে পরিশ্রম করে যেতে হবে।

৪. কাজের প্রতি উৎসাহ কমে যাওয়া

আপনার কাজের প্রতি ভালো লাগা এবং ভালোবাসা দুটোই থাকতে হবে। কাজটি আপনি কতবার করছেন বা ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত হচ্ছেন কি না, তা বিবেচনা না করে কাজের প্রতি সেই আগ্রহ ও ভালো লাগাটা ধরে রাখতে হবে।

ব্যাপারটি যদি এমন হয় যে আপনি আপনার কাজের প্রতি একেবারেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বা কাজটি করতে একেবারেই ভালো লাগছে না, তাহলে হয়তো আপনার ক্যারিয়ারের ট্র্যাক পরিবর্তনের কথা ভাবার সময় এসেছে।

৫. বিক্ষিপ্ত মন

জীবনে চলার পথে মন অনেক বেশি বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়লে দৈনন্দিন কাজগুলো করাও কঠিন হয়ে পড়ে। মন বেশি বিক্ষিপ্ত হয়ে গেলে নিজেকে কিছুটা সময় দিন। একাকী ভাবুন, প্রতিদিনের কোন কাজগুলো না করলেও আপনার চলবে বা স্বাভাবিক জীবনে যেগুলোর খুব একটা প্রভাব পড়বে না। সেই কাজগুলো বাদ দিন বা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে করে জীবন থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমে যাবে এবং মনোযোগ বাড়বে। লক্ষ্য ও প্রচেষ্টার মধ্যকার ব্যবধানগুলো বোঝাও সহজ হবে।

৬. কাজকে গুরুত্ব না দেওয়া

কর্মজীবনে কাজ করতে করতে মাঝে মাঝে আমরা অলস হয়ে উঠি, আলসেমি যেন পেয়ে বসে। কিন্তু এমন যদি হয় যে আপনি কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বা কাজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তাহলে আপনার বর্তমান কাজের ক্ষেত্র নিয়ে ভাবা উচিত। যেখানে কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, সেখানে না থেকে বরং অন্য কোনো ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করা উচিত।

কাজকে গুরুত্ব দেওয়া এবং যথাসময়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা আপনার পেশাদারিত্বকে ফুটিয়ে তোলে। আপনি নিজেই যদি আপনার কাজকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে অন্যরা কেন আপনাকে গুরুত্ব দেবে?

৭. আরও ভালো সুযোগ আসবে ভেবে বর্তমান সুযোগ হাতছাড়া করা

ভবিষ্যতে আরও ভালো সুযোগ আসতে পারে, এই ভেবে বর্তমানে আপনার কাছে যে সুযোগ এসেছে, তা কখনোই হাতছাড়া করা উচিত নয়। প্রথমত, একবার কোনো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে সেই সময় বা সুযোগ কোনোটিই আর ফিরে আসে না। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতের কোনো সুযোগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করতে করতে আপনার মনে অনুশোচনা জাগতে পারে।

৮. অধৈর্য হয়ে পড়া

আপনার দক্ষতা রয়েছে এবং আপনি যথেষ্ট পরিশ্রমী। কিন্তু আপনি যদি সাফল্য খুব দ্রুত আশা করেন এবং দ্রুত সফল না হওয়ার কারণে যথেষ্ট চিন্তিত হয়ে পড়েন বা ধৈর্য হারান, তাহলে একবার ভাবুন তো, সফলতা কি কখনো রাতারাতি আসে? তাই ধৈর্য ধরে চেষ্টা করতে থাকুন।

৯. সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্কিল ডেভেলপ না করা

আপনি কর্মক্ষেত্রে যতই অভিজ্ঞ হন না কেন, সব বিষয় আপনার জানা থাকবে বা সব ক্ষেত্রে আপনি দক্ষ হবেন, এমনটা কিন্তু নয়। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখার আছে। সফল ব্যক্তিদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখবেন, তারা প্রতিনিয়ত নতুন কিছু না কিছু শিখতে থাকেন এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন।

বিভিন্ন ধরনের বই পড়া, কনফারেন্সে যোগ দেওয়া বা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কোর্স করার মাধ্যমে আপনি নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

১০. প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে না পারা

আমরা প্রত্যেকেই কর্মক্ষেত্রে আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সবার দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রত্যাশা এক হয় না। তাই ভালো কাজ করার পরেও আপনার কাজটি সেরা হিসেবে বিবেচিত নাও হতে পারে। অনেকেই এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে পারেন না এবং হতাশ হয়ে পড়েন, যার প্রভাব কাজের ওপরও পড়ে।

কিন্তু কখনোই এমনটা হওয়া উচিত নয়। বরং বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে আরও ভালোভাবে কাজ করার চেষ্টা করা উচিত।